Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

কাতার বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ভাঙ্গলো অতীতের সব রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ সেরা আসর ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ। কোন দল ফুটবলে সবার সেরা সেই স্বীকৃতি উঠে আসে বিশ্বকাপের এই মঞ্চে। বিশ্বকাপ জয়ী দল কে দেয়া হয় ৬ কেজি স্বর্ণ দিয়ে তৈরি একটি মহামূল্যবান ট্রফি। তবে বিশ্বকাপ শুধু জাতীয় দল গুলোর জন্য নয় খেলোয়াড়দের ব্যক্তিত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব বিচারের সবোর্চ্চ আসর সেই জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শেষে খেলোয়াড়দের দেওয়া হয় বিশেষ পুরস্কার। বিশ্বকাপ ট্রফি ছাড়াও এই ফুটবল আসরে আর কি কি পুরষ্কার দেওয়া হয় এবং বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী এক একটি দল কত টাকা করে পায় সেটা নিয়ে আলোচনা করা হবে এই ব্লগে।


ম্যান অব দ্য ম্যাচ অ্যাওয়ার্ড

ম্যান অব দ্য ম্যাচ অ্যাওয়ার্ড হাতে আর্জেন্টিনা ফুটবলার লিওনেল মেসি; Image Source: Twitter 


বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের শেষে উক্ত খেলার সেরা খেলোয়াড়কে একটি ট্রফি প্রদান করা হয়। একে ম্যান অব দ্য ম্যাচ বলা হয়। ২০০২ সাল থেকে এই পুরস্কারের প্রচলন শুরু হয়। এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ম্যান অব দ্য ম্যাচ অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তিনি ৮ বার এই ট্রফি পেয়েছেন। এর পরে ৭ বার ম্যান অব দ্য ম্যাচ অ্যাওয়ার্ড পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। এক আসরের মধ্যে সবচেয়ে সবোর্চ্চ ম্যান অব দ্য ম্যাচ পাওয়ার রেকর্ড আছে মেসির। শুধুমাত্র ম্যান অব দ্য ম্যাচ অ্যাওয়ার্ড খেলা শেষে বিতরণ করা হয়। বাকি সব পুরষ্কার বিতরণ করা হয় বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ শেষে।


গ্লোন্ডেন বুট অ্যাওয়ার্ড

যিনি বেশি সংখ্যক গোল করেন তিনি এই ট্রফি পেয়ে থাকেন; Image Source: Youtube 


একটি বিশ্বকাপ আসরে সবোর্চ্চ গোলদাতা কে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। গ্লোন্ডেন বুট অ্যাওয়ার্ড একটি পরিসংখ্যান ভিত্তিক ট্রফি' অর্থাৎ এই পুরস্কার কে পাবে সেটা নিয়ে আলাদা করে কোন ভোটাভুটি বা নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন পড়ে না। যে বেশি গোল করবে এই অ্যাওয়ার্ড সেই পাবে।

১৯৩০ সাল থেকে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হলেও অতীতে এর নাম ছিল গ্লোন্ডেন শো। গত বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ৭ গোল করে এই অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় হ্যারিকেন।


গ্লোন্ডেন বল অ্যাওয়ার্ড

গ্লোন্ডেন বল অ্যাওয়ার্ড; Image Source: Youtube 

একটি বিশ্বকাপে সবচেয়ে সেরা খেলোয়াড় কে গ্লোন্ডেন বল অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়ে থাকে। বিশ্বকাপের প্রথম আসর থেকে গ্লোন্ডেন বল অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হতো না। অবশেষে ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ থেকে এই ট্রফি'র প্রচলন শুরু হয়। ফিফার এক্সপার্ট বিচার প্যানেলের বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই পুরস্কারের জন্য  যোগ্য খেলোয়াড়কে বিবেচনা করা হয়। গ্লোন্ডেন বল কে গ্লোন্ডেন বুটের চেয়েও বেশি সম্মানজনক হিসেবে তুলনা করা হয়। সাধারণত গ্লোন্ডেন বল বিজয়ী সেই বছর (ব্যালন ডি'অর) অ্যাওয়ার্ডের জন্য প্রথম সারিতে থাকেন। ব্যালন ডি’অর হলো ফ্রান্সের একটি বিখ্যাত ফুটবল ম্যাগাজিনের পক্ষ হতে আয়োজিত ফুটবলের বাৎসরিক অ্যাওয়ার্ড। গ্লোন্ডেন বল অ্যাওয়ার্ড টি তুলনামূলক কম পারফরম্যান্স অনুযায়ী সিলভার বল ও ক্রোস বল অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়ে থাকে।


গোল্ডেন গ্লাভস অ্যাওয়ার্ড

একজন দক্ষ ও সেরা গোলরক্ষক এই ট্রফি পাওয়ার দাবি রাখে; Image Source: Youtube 

ফিফা বিশ্বকাপ আসরে সেরা গোলরক্ষক খেলোয়াড়ের জন্য গোল্ডেন গ্লাভস অ্যাওয়ার্ড টি প্রচলন করা হয়েছে। অতীতে এই পুরস্কারটি ছিল না। ১৯৯০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আসর থেকে এই গোল্ডেন গ্লাভস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হচ্ছে। পরিসংখ্যান ভিত্তিক ও এক্সপার্ট মতামত উভয় দিক বিবেচনা করে এই পুরস্কার দেওয়া হয় সবচেয়ে গোলরক্ষক দায়িত্ব পালন করা খেলোয়াড়কে। তবে কখনো কখনো একটি অসাধারণ গোল ফিরিয়ে দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হতে পারে।


বেস্ট ইয়ং প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড

বেস্ট ইয়ং প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড; Image Source: Youtube 

বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ২১ বছরের কমবয়সী সবচেয়ে সেরা খেলোয়াড় কে বেস্ট ইয়ং প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। ২১ বছরের কমবয়সী যে খেলোয়াড় যত বেশি গোল করেছে এবং যত বেশি এসিস্ট করেছে অথবা যে প্লেয়ার যত বেশি বল ডিফেন্ড করতে পেরেছে থাকে দেওয়া হয় মূলত এই পুরস্কার টি। পুরস্কারটি নতুন হলেও তরুণদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অ্যাওয়ার্ড।


ফেয়ার প্লে ট্রফি

ফেয়ার প্লে ট্রফি; Image Source: Youtube 

বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট গুলোতে যে দল বেশি শৃঙ্খলা দেয় তাদের কে ফেয়ার প্লে ট্রফি প্রদান করা হয়। সাধারণত যে দলের খেলোয়াড়রা সবচেয়ে কম হলুদ কার্ড পাই তাদেরকে দেয়া হয় মূলত এই ট্রফি। এছাড়াও এমন দলকে এই ট্রফি দেওয়া হতে পারে যারা খুব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অস্বাভাবিক ভালো পারফরম্যান্স করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ থেকে ফেয়ার প্লে ট্রফি'র যাত্রা শুরু হয়।


মোস্ট এন্টারটেইনিং টিম অ্যাওয়ার্ড

মোস্ট এন্টারটেইনিং টিম অ্যাওয়ার্ড; Image Source: Youtube 

ফুটবল বিশ্বকাপে যে দল বেশি গোল করে তাদের কে মোস্ট এন্টারটেইনিং টিম অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ থেকে মোস্ট এন্টারটেইনিং টিম অ্যাওয়ার্ডের প্রচলন শুরু হয়। যদি দেখা যায় উভয় দল একাধিক সংখ্যক গোল করেছে তখন তাদের মধ্য যে দল সবচেয়ে কম গোল খেয়েছে তাঁরা এই পুরস্কারের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ যে দল বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করবে এবং নিজেরা সবচেয়ে কম গোল খাবে তারাই মূলত এই অ্যাওয়ার্ড পেয়ে থাকেন।


গোল অফ দা টুর্নামেন্ট অ্যাওয়ার্ড

২০০৬ সালে বিশ্বকাপ থেকে গোল অফ দা টুর্নামেন্ট অ্যাওয়ার্ড চালু করা হয়। এই অ্যাওয়ার্ড প্রচলনের পর থেকে চারটি বিশ্বকাপ আসর বসেছে। প্রত্যেকটিতে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়েছে। তবে সাধারণত দর্শকেরা বিশ্বকাপের মধ্যে যে গোল টি সবচেয়ে সেরা গোল হিসেবে ভোট দেয় সেই গোলদাতায় মূলত গোল অফ দা টুর্নামেন্ট অ্যাওয়ার্ড পায়।

আরো পড়ুন;

•১৪ বছরের ফুটবল ক্যারিয়ারে কোনো লাল কার্ড দেখেন নি ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা


•ফুটবল বিশ্বকাপ কারা বানায় এবং কোথায় সংরক্ষিত থাকে এটি| Football World Cup


সর্বশেষ, এক একটি দল কত টাকা করে পায়?

কাতার বিশ্বকাপ শুধু আয়োজকদের দিক থেকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নয়। খেলোয়াড়দের জন্য এই আসর প্রচুর অর্থ লাভের সুযোগ নিয়ে এসেছে। কারণ এবারের বিশ্বকাপের প্রাইজমানি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। রাশিয়ায় আয়োজিত সর্বশেষ বিশ্বকাপের চেয়ে কাতার বিশ্বকাপে প্রাইজমানি বেড়েছে ৬০ লাখ ডলার। কাতার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী কোন দল যদি একটি ম্যাচও জিততে না পারে শুধু তারা টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্যই পাবেন ১২ লাখ ডলার। এবং প্রতিটি দলের জন্যই এই অর্থমূল্য বরাদ্দ থাকবে।

আসরে অংশগ্রহণ করা ৩২ দলের মধ্যে পারফরম্যান্সের দিক থেকে এগিয়ে যারা শেষ ষোলতে উঠবে। অর্থাৎ ১৭তম থেকে ৩২তম স্থান পর্যন্ত প্রত্যেকটি দল পাবে ৯০ লাখ ডলার করে। এই দল গুলোর জন্য সব মিলিয়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এরপর ৯ম থেকে ১৬তম দলের প্রত্যেকটির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এই দল গুলো প্রত্যেকে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার করে পাবে। অন্যদিকে ৫ম থেকে ৮ম স্থানে যে দল গুলো থাকবে প্রত্যেকটি দল ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার করে পাবেন। সব মিলিয়ে তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। 


সবশেষে এবারের বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল টি পাবে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এবং তৃতীয় স্থান অর্জন কারী দল পাবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এই বিশ্বকাপে রানার্সআপ দল পাবে ৩ কোটি ডলার। এবং সর্বশেষ যে দল বিশ্বকাপ আসরে চ্যাম্পিয়ন হবে তাঁরা পাবেন ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। সেই সাথে তাদের কে সম্মানসূচক মূল ট্রফি টি দেওয়া হবে।

তবে এই ট্রফি টি একেবারে দিয়ে দেওয়া হবে না। চ্যাম্পিয়ন দল পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত ট্রফি টি তাদের অধীনে রাখতে পারবে। এর পরের বিশ্বকাপের জন্য ট্রফিটি আবার ফিফার কাছে জমা দিয়ে দিতে হবে। তখন ফিফা চ্যাম্পিয়ন দল কে সোনার প্রলেপ দেওয়া একটি নকল ট্রফি বিতরণ করবে। তবে অতীতে একটি নিয়ম ছিল যদি কোন দল পরপর তিন বার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় তাহলে ট্রফিটি তাদের কে চিরতরে দিয়ে দেওয়া হতো। সেই হিসেবে ব্রাজিল কে এর আগের বিশ্বকাপে ট্রফি টি একেবারে জন্য দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যর বিষয় হলো ট্রফি টি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন থেকে চুরি হয়ে গিয়েছিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ