![]() |
| ব্ল্যাক রাইস বা কালো চাল; Image Source: Youtube |
ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে কালো চালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যান্সার প্রতিরোধী এন্টিঅক্সাইড। এছাড়াও কালো চালে ফাইবার, আমিষ, ভিটামিন, জিংক ও খনিজ পদার্থ সহ অন্যান্য উপাদান গুলো সাধারণ চালের তুলনায় তিন গুণ বেশি থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই কার্যকরী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এই ব্ল্যাক রাইস কে। সাদা চালের তুলনায় এই কালো চালের দাম তুলনামূলক একটু বেশি। সুপার শপ থেকে আমদানিকৃত এক কেজি কালো চাল ১ হাজার টাকা এবং দেশি কালো চাল ৩০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হয়।
অতি মূল্যবান এ কালো চাউল এখন সফলতার সাথে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ করছেন বগুড়ার ফকির সোহেল নামে এক কৃষক। সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক প্লাটফর্ম ইউটিউব থেকে প্রথম এই ব্ল্যাক রাইস সম্পর্কে জানতে পারেন ফকির সোহেল। সাধারণ চালের তুলনায় এর দাম একটু বেশি হওয়ায় তিনি আগ্রহী হয়ে এই চাউলের চাষ পদ্ধতি শুরু করেন। ব্লাক রাইচ সম্পর্কে জানার পর সোহেল বহু কষ্ট করে ভিয়েতনাম থেকে এই কালো জাতের ধান বীজ সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন।
এরপর পরীক্ষামূলকভাবে তার ১০ শতাংশ জমির উপর এই ধান চাষের আবাদ শুরু করেন। পরীক্ষামূলক চাষে সফল হওয়ার পর সোহেল ভিয়েতনামের ব্ল্যাক রাইসের বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন শুরু করেন। এই ধানের উৎপাদন প্রক্রিয়া প্রচলিত ধানের মতো হলেও এর ফলন তুলনামূলক একটু বেশি পাওয়া যায়। আর বাজারে এর দাম ও অত্যাধিক।
আরো পড়ুন;
• ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রতি কেজি মাছের পোনা
• পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানার শীর্ষে এখন বাংলাদেশ
• কনকর্ড বাংলাদেশের একমাত্র অত্যাধুনিক ইট কারখানা
প্রতি বিঘা জমিতে প্রচলিত অন্যান্য ধান সাধারণত ২০-২২ মণ পাওয়া গেলে ও ব্ল্যাক রাইস পাওয়া যায় ৩০ মণ। প্রথমবার ১০ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ করে ভালো ফলন ও দাম দেখে পরবর্তীতে ৪৫ শতাংশ জমিতে বাম্পার ব্ল্যাক রাইস আবাদ করেন ফকির সোহেল। তার ভাষ্যমতে এই ধান গুলোর কোন চিটা হয় না।ব্ল্যাক রাইস বছরে দুইবার আবাদ করা যায়। অন্যান্য ধানের মতো এই ধান একি উপায়ে চাষাবাদ করা হয়। পরে ৯০-৯৫ দিনের মধ্যে এই ধান কাটার উপযোগী হয়।
সাদা চালের মতো এই চাল চিকন ও মোটা দু ধরনের হয়ে থাকে। সর্বপ্রথম ২০১৯ সালে এক জাতের চাল দিয়ে চাষাবাদ শুরু করলেও বর্তমানে সোহেলের কাছে অন্তত পাঁচ ধরনের ব্ল্যাক রাইস। আমদানিকৃত ও দেশি উৎপাদিত ব্ল্যাক রাইস একি হলেও ধান মাড়াইয়ের ভিন্নতার কারণে চালের রং কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। আমদানিকৃত চাল দেখতে অনেকটা চকচকে আর দেশি উৎপাদিত চাল দেখতে অনেকটা ফ্যাকাশে হয়ে থাকে।
প্রচলিত সাদা চালের তুলনায় ব্ল্যাক রাইসের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি।
ডাক্তররা গর্ভবতী মায়েদের জন্য এই চালের ভাত খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এমনকি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই ভাত নিরাপদ বলে মনে করেন ডাক্তররা। তবে এই কালো চাল অধিক পুষ্টিসমৃদ্ধ ও উচ্ছ ফলন হওয়া সত্ত্বেও আমাদের দেশে এখনো অপ্রচলিত। শহরের কিছু সুপার শপ বা স্থানীয় ভাবে বিক্রি হয়ে থাকে এই ধান ও চাল। ফকির সোহেলের উৎপাদিত ব্ল্যাক রাইস এখন কোরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশ ব্যাপী সরবরাহ করে থাকেন। প্রচলিত চালের তুলনায় এই কালো চালের বাজার মূল্য অনেক বেশি। পক্ষান্তরে এই ধানের ফলন ও ভালো তাই অত্যাধুনিক পুষ্টি সমৃদ্ধ এই ধান চাষ হতে পারে কৃষকদের জন্য এক নতুন স্বপ্ন।

0 মন্তব্যসমূহ