Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানার শীর্ষে এখন বাংলাদেশ

ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও, ঈশ্বরদী,পাবনা; Image Source: Textilelab 

ছবিতে যেটা দেখছেন এটা হঠাৎ করে যে কারো রিসোর্ট মনে হতে পারে। কিন্তু এটি একটি পোশাক কারখানা। যেখানে দম বন্ধ হওয়ার কোন পরিবেশ নেই এবং চারপাশে সবুজেগেরা কৃত্রিম আলোর সাথে সূর্যের আলোর যেন এক অভূতপূর্ণ সম্মিলন। গুগল কিংবা কোন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে এমন পরিবেশের কথা শুনে যারা বাংলাদেশের জন্য একটি স্বপ্ন ভেবেছিলেন তাদের জন্য সবুজে মোড়া এমন পরিবেশের পোশাক কারখানা এখন বাংলাদেশে মোট ১৭৬ টি।

তেমন একটি পোশাক কারখানা পাবনার ইশ্বরদীত ইপিজেডে "ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও লিমিটেড" যা বাংলাদেশের প্রথম পরিবেশ বান্ধব পোশাক কারখানা হিসেবে ২০১২ সালে উৎপাদনে যায়। ৪ লাখ বর্গফুটের এই কারখানা নির্মাণে ব্যবহার থেকে শুরু করে এর উপাদান বাছাই করা হয়েছে পরিবেশ সুরক্ষা কে বিবেচনা করে। পরিবেশবান্ধব কারখানার সনদ দিয়ে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের Green Building Council বা (USGBC)।

Green Building Council বা (USGBC); Image Source:Crunchbase 

শুধু প্রচলিত ছোঁয়ায় নয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাইরে গিয়ে তাঁরা পরিবেশ বান্ধব ইটিপি ব্যবহার করছে।

তার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের গ্লামি ফ্যাশন তৈরি করেছে আরেক ইতিহাস। নিট পোশাকে এটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের শীর্ষ স্থান দখল করে নেওয়া একটি পরিবেশ বান্ধব গার্মেন্টস। শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ও সবুজ ঘেরা। কারখানাটি উৎপাদনে যায় ২০১৪ সালে।

গ্লামি ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফজলুল হক জানান__ রানা প্লাজা ইস্যুতে হঠাৎ করে দেশের পোশাক বয়কট করার মতো প্রবণতা শুর হয়ে গিয়েছে ওয়েস্টার্ন কান্ট্রি গুলোর মধ্যে। আমরা তখন চিন্তা করলাম যে এমন একটি পজেটিভ কিছু করা যায় কিনা যেটার মাধ্যমে বাংলাদেশের এই বদনাম টা উল্টে দিতে পারি তাই এই গ্ৰীন কনসাল টা মাথায় আসলো।

পরিবেশবান্ধব কারখানাটি ক্রেতাদের প্রচুর প্রশংসাও পাচ্ছেন। কিন্তু কারখানা টি গড়ে তুলতে যে বাড়তি খরচের বোঝা সেই অনুপাতে মিলছে না পোশাকের দাম। শুধু পরিবেবান্ধবের উপর থেমে থাকেনি বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প গুলো। ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের আর বাংলাদেশ সরকারের দেয়া নির্দেশনা মেনে শ্রমিকদের কর্ম পরিবেশ নিরাপদ করেছে।

শুরুটা ছিল রানা প্লাজা বিপর্যয়ের পর থেকে দেশের পোশাক কারখানা কর্ম পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে।

তখন থেকেই বিশ্বব্যাপী তৈরি হয় আলোচনা ও সমালোচনা। সেখান থেকে মূলত ঘুরে দাঁড়াতে চায় উদ্যোক্তারা। ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের নির্দেশনা মেনে ঢেলে সাজাতে শুরু করেন কারখানা গুলো। ভবন থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অগ্নি সতর্কতা নিশ্চিত হয় শতভাগ সুরক্ষ। ফলে কারখানা দুর্ঘটনা এখন শূন্যের কোঠায়। কেবল শুধু পরিবেশবান্ধব কারখানা গড়ায় নয় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য তাদের বাচ্চাদের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রাথমিক চিকিৎসা শিশুদের বিনোদনের জন্য ব্যবস্থা সবই চলে সমান তালে।

পোশাক খাতে চুক্তির জন্য প্রাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক গড়ে তোলার ব্যবস্থা। মেশিনারিজের শব্দ ও বায়ু দূষণ কমাতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ হয় স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এতে শ্রমিকদের অসুস্থতার হার ও কমেছে অনেক গুণ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন কারখানার মধ্যে এত উন্নয়নের পর রানা প্লাজার দুর্নাম কাটিয়ে ওঠার এটিই দেশের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন। এখন শুধু মন দিতে হবে পণ্যের ন্যায্য মূল্য দাম আদায়ের দিকে। এভাবে পরিবেশবান্ধব আরো ৫০০টি গার্মেন্টস নির্মাণাধীন রয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি। বিজিএমইএ বলছে এসব কারখানাগুলোর কল্যাণে গার্মেন্ট দূর্ঘটনা ও শ্রমিক শোষণের এই বদনাম গুছিয়ে মেড ইন বাংলাদেশ এখন এক গৌরবের নাম।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ