![]() |
| ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান এফটিএক্স; Image Source: Twitter |
স্যাম ব্যানকম্যান-ফ্রাইড অনলাইন গেমিং এর দক্ষ তরুণ উদ্যোক্তা। তিনি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ FTX এর প্রতিষ্ঠা করেন ২০১৯ সালে। তার নেতৃত্বে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে FTX। এবং গ্ৰাহক সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ লাখের ও বেশি। বিটকয়েন সহ সব ধরনের ক্রিপ্টো কারেন্সি লেনদেন হতে থাকে FTX। দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারে। FTX হয়ে ওঠে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ। লাভজনক এই প্রতিষ্টানটির কল্যাণে ২০২১ সালে বিলিয়নিয়ারের তালিকায় নাম লেখান স্যাম।
২০২২ সালের শুরুতে FTX এর বাজার মূল্য দাঁড়ায় ৩২ বিলিয়ন ডলার। ৩০ বছর বয়সী স্যাম হয়ে ওঠেন তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আদর্শ। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই দরপতনের কবলে পড়ে বিটকয়েন সহ অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি গুলো। সে সময় FTX প্রধান নির্বাহী স্যাম ঘোষণা দেন সংকটে থাকা ক্রিপ্টো এজেন্সি গুলো কে সহায়তা করতে তহবিলে থাকা ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে চান তিনি। স্যামের এই ঘোষণা প্রশ্নবিদ্ধ হয় কয়েন ডেস্কের এক আর্টিকেল প্রকাশের পর। যেখানে বলা হয় FTX এটি মূলত Alameda Research এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ফলে এর নিজস্ব কোনো সম্পদ নেই।
অতঃপর, সংকট আরো প্রকট হয় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ FTX এর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানঃ বাইনান্সের এর প্রধান নির্বাহী সিইও চ্যাংপেং ঝাও এক টুইটে। যেখানে তিনি জানান FTX কেনার উদ্দেশ্য চুক্তি সই করতে চলেছে বাইনান্স। তবে এই চুক্তি বাধ্যতামূলক নয় বলে স্বীকার করেন চ্যাংপেং ঝাও। বাইনান্স চাইলে পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারেন।
স্যামের আনুমানিক সম্পদমূল্য ছিল ১৫.২ বিলিয়ন ডলার। বাইনান্স অধিগ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্যামের সম্পদের পরিমাণ নেমে আসে ৯৯১ মিলিয়ন ডলারে। একদিনের ব্যবধানে ৯৪ শতাংশ সম্পদ হারিয়েছেন তিনি। এমন অবস্থায় FTX এর প্রধান নির্বাহী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্যাম। সেই সঙ্গে আবেদন জানিয়েছেন কোম্পানি টিকে দেউলিয়া ঘোষণার। এরইমধ্যে অভিযোগ উঠেছে স্যাম এক্সচেঞ্জ থেকে কমপক্ষে ১০ বিলিয়ন ডলার আলমিরায় সরিয়ে নিয়েছেন। এর বাইরে আমানতকারীদের আরো এক থেকে দুই বিলিয়ন ডলারের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের শংঙ্কা এটি হতে যাচ্ছে আর্থিক খাতে আরেকটি বড় জালিয়াতির
উদাহরণ। এর মধ্যে পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ACC)।

0 মন্তব্যসমূহ