![]() |
| অবৈধ লেনদেনের জনপ্রিয় মাধ্যম হুন্ডি; Image Source: Youtube |
বিদেশ থেকে দেশে দেশ থেকে বিদেশে যেভাবে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হচ্ছে ঠিক তেমনি অবৈধ পথে লেনদেন হচ্ছে অবাধে। অবৈধ পথের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেনদেনের মাধ্যম হচ্ছে হুন্ডি। উপমহাদেশের মুঘল আমল থেকে চালু হয় এই হুন্ডি ব্যবসা।
অবৈধ পথে কেন অর্থ লেনদেন করছে মানুষ?বৈধ পথের সংকট কোথায়?
এক দেশ হতে অন্য দেশে অবৈধ টাকা লেনদেনের যে মাধ্যমটি রয়েছে সেটি হলো হুন্ডি। হুন্ডির লেনদেন হয় প্রচলিত ব্যাংকের বাইরে ফলে এটি দেশের আইনে অবৈধ ও অপরাধ। হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার হওয়া অর্থের মাধ্যমে আমদানি ব্যয় বেশি দেখান অসাধু ব্যবসায়ীরা। আর বিদেশ থেকে দেশে টাকা পাঠান অনেক প্রবাসী।
প্রবাসীরা বলেন সেখানে পরিচিত হুন্ডি ব্যবসায়ী ও এজেন্টের মাধ্যমে সেই দেশের মুদ্রা প্রধান করেন এবং বাংলাদেশে তাদের পরিবারের কাছে খুব দ্রুত ঐ সমমূল্যের টাকা পৌঁছে যায়।
হুন্ডি অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও বেশ কিছু প্রবাসীরা তাদের অর্জিত অর্থ এভাবে দেশে টাকা পাঠাতে থাকেন।
প্রবাসীরা হুন্ডিতে উৎসাহী কেন?
প্রধানত দুটি কারণে প্রবাসীদের কাছে হুন্ডি খুবই জনপ্রিয়।
প্রথমত, হুন্ডিতে ডলারের রেট ব্যাংকের রেটের তুলনায় একটু বেশি পাওয়া যায়।
দ্বিতীয়ত, যখন প্রয়োজন তখন টাকা দ্রুত পরিবারের কাছে অথবা দেশে পাঠানো যায়। তৃতীয়ত, ছুটির দিন কিংবা ব্যাংকিং আওয়ারের কথা চিন্তা করতে হয় না।
চতুর্থত, হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাতে তুলনামূলক খরচ ও কম। এছাড়া আরো কিছু কারণ রয়েছে যেমন
প্রবাসীরা ব্যস্ততার কারণে ব্যাংকে গিয়ে টাকা পাঠানোর সময় পান না হুন্ডি ব্যবসায়ীরা বাসায় এসে টাকা নিয়ে যায় এবং বাড়িতে পৌঁছে দেয়। নির্দিষ্ট সীমার বাইরে টাকা পাঠাতে গেলে জবাবদিহিতা ও নানা কাগজপত্রের ঝামেলা পোহাতে হয়। সে ক্ষেত্রে হুন্ডি বেশ সুবিধাজনক মনে করেন অনেক প্রবাসীরা। তবে সম্প্রতি এ সীমা তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সবচেয়ে বড় সমস্যা যেটা সেটা হচ্ছে যারা প্রবাসে অবৈধভাবে বসবাস করে তারা লুকিয়ে চলাফেরা করে কাগজপত্র নেই তাই তারা ব্যাংকে এসে টাকা পাঠাতে পারেন না।
প্রবাসীরা আরো জানান দেশের ব্যাংকের সেবার মান খুবই খারাপ তাদের পরিবারকে টাকা পাওয়ার জন্য অনেক সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়। ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রণোদনার হার এখন ২.৫% এতে প্রবাসীরা উৎসাহিত হলেও অনেকেই সেই সুযোগ টাকে কাজে লাগাচ্ছেন না।
অনেকের আবার পাসপোর্ট সংশোধনের ফাইল জমা পড়ে আছে মাসের পর মাস তারা বৈধ উপায়ে অর্থ পাঠাতে পারছেন না পরিবারের কাছে। হুন্ডি ব্যবসার সাথে জড়িত সহজ সরল মানুষদের বুঝিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাতে এক প্রকার বাধ্য করা হয়। অনেকেই জানেন না হুন্ডি ও ডিজিটাল লেনদেন অবৈধ এবং অপরাধ।
এছাড়াও অনেক প্রবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন দেশের এয়ারপোর্ট ও পাসপোর্ট অফিসের হয়রানি কারণে তারা যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। এক প্রকার রাগে দুঃখে ও হতাশায় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে চান না তাঁরা। অন্যদিকে পাচারকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য হুন্ডি সবচেয়ে ভালো উপায়। এর প্রক্রিয়ায় টাকা হওয়ায় পাচারকারীদের সনাক্ত করা খুবই কঠিন। অসাধু ব্যবসায়ীরা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা লেনদেন করেন যেন আমদানি খরচ কম হয়। ফলে লাভ বেশি করতে পারে।
আরো পড়ুন;
• আইএমএফের ঋণ বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? IMF LOAN
• রাতারাতি দেউলিয়া ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ব্যানকম্যান-ফ্রাইড
• আদার পানির ৫ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা
আপাতত দৃষ্টিতে হুন্ডির সুবিধা কি আসলেই বেশি মনে হচ্ছে।
তাহলে এবার চলুন কিছু অসুবিধার কথা ও বলি ।
হুন্ডিতে মূলত এজেন্টের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়। এটি পুরোপুরি চলে বিশ্বাসের উপর তাই এই উপায়ে অর্থ লেনদেন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
যেহেতু প্রচলিত আইনে এই ধরনের লেনদেন অবৈধ কোন কারণ টাকা আত্মসাৎ হয়ে গেলে তা আর ফেরত পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। আইনি সহায়তা নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। এভাবেই অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছেন অনেকে।
• অন্যদিকে আয়কর রেয়াত পাওয়া যায় না।
• প্রবাসীর বৈধ উপার্জন অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।
• প্রবাসী গ্ৰাহক হয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয়।
• ব্যাংকিং সুবিধা ও বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়া যায় না।
এইতো গেল ব্যক্তিগত ক্ষতির কথা।
রাষ্ট্র বা দেশের ক্ষতির কথা যদি বলি তাহলে
• দেশ বঞ্চিত হয় শুল্ক ও রাজস্ব আয় থেকে।
• বৈদেশিক রিজার্ভ কমে যায়।
• অবৈধ টাকার মালিকরা প্রবাসীদের টাকা বিদেশে রেখে সম্পদ পাচার করে।
তাই হুন্ডি ব্যবসা বন্ধ করতে জনসাধারণের যেমন সচেতনতা বাড়ানোর দরকার ঠিক তেমনি কি কারণে প্রবাসীরা হুন্ডির আশ্রয় নিচ্ছে তা পর্যালোচনা করে ব্যাংকিং ব্যবস্থা আরো উন্নত জনবান্ধব ও সেবা মূলক করে তোলা প্রয়োজন। এবং সর্বশেষ অর্থ পাচার রোধে আরো কঠোর হওয়া দরকার।

0 মন্তব্যসমূহ