| কনকর্ড গ্ৰুপ; Image source: Facebook |
প্রতি নিয়ত নতুন নতুন দালান তৈরি করে পৃথিবী নিয়ে যাচ্ছে এক অনন্য উচ্চতায়। উন্নয়নের জন্য দালান নির্মাণের উপাদান গুলোর মধ্যে ইট অন্যতম। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২,৫০০ কোটি থেকে ৩,০০০ কোটি ইট উৎপাদন হয়ে থাকে। যেখানে মোট ইট ভাটার সংখ্যা ৮-১০ হাজারের মত। কিন্তু দুশ্চিন্তা বিষয় হচ্ছে ইট ভাটা গুলোর মধ্যে বেশির ভাগই পরিবেশ বান্ধব নয়। এই ইট ভাটা গুলো আমাদের পরিবেশে প্রচুর পরিমাণে গ্ৰীণ হাউস গ্যাস নির্গমন করে। যা কৃষি জমির উপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। শুধুমাত্র মাটি পোড়ানো ইট ভাটার কারণে প্রতিবছর এক শতাংশ হারে কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে।
বিশ্বের অনেক দেশ রয়েছে যারা কিনা পরিবেশ বান্ধব ইট উৎপাদন করার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। চীন,ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম সহ বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই ভয়াবহতা উপলব্ধি করে পরিবেশ বান্ধব ইট বা ব্লক তৈরি করছে। এবার আমাদের দেশেও এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্লক তৈরি করছে কনকর্ড গ্ৰুপ। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া মেঘনা নদীর ঘাটের পাশে উৎপাদন হচ্ছে ইট, হলো ব্লক ও টাইলস। নদী পথে আসছে মাটি, সিমেন্ট ও পাথর। তা দিয়ে তৈরি হচ্ছে এই সব নির্মাণ সামগ্রী। তবে আকাশে উড়ছে না কোন কালো ধোঁয়া বা ধুল।এই কারখানায় কোন ধোঁয়া নেই আধুনিক যন্ত্রে তৈরি হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব সব নির্মাণ সামগ্রী।
পোড়া মাটির ইটের ব্যবহার বন্ধে ১৯৯৮ সালে এই উদ্যোগ এখন অন্যদের ও পথ দেখাচ্ছে কনকর্ড। এর পাশাপাশি আরো অন্যান্য কোম্পানি এই ব্যবসায় নেমে পড়ে।
বাংলাদেশ সরকার ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে অবকাঠামো তৈরিতে দশ শতাংশ পরিবেশ বান্ধব ইট ব্যবহারের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নির্মাণ খাতে শতভাগ পরিবেশ বান্ধব ইট ব্যবহারের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। পোড়া মাটি ব্যবহার বন্ধে অবৈধ ইট ভাটা ও উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাচ্ছে সরকার। আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কনকর্ডের পরিবেশ বান্ধব ইট, হলো ব্লক, ও টাইলস তৈরির কারখানা টি মেঘনা নদীর ধারে আট একর জমির উপর কনকর্ড রেডি মিড এন্ড কনক্রিট প্রোডাক্টস লিমিটেডর একটি কারখানা।
তার পাশে রয়েছে ১১ একর জায়গা জুড়ে আরেকটি সুবিশাল কারখানা। কারখানা দুটিতে বিদেশ থেকে আনা যন্ত্রে উৎপাদন হচ্ছে নির্মাণ সামগ্রী। স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ মাটি সিমেন্ট ও পাথর এসে মিশে যাচ্ছে এর পর তৈরি হচ্ছে ইট বা ব্লক।
পোড়া মাটির ইটের বিকল্পে যে ব্লক বা ইট উৎপাদন হচ্ছে তা পোড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের আকার ও আকৃতি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এই ইট বা ব্লক। একি ভাবে পার্কিং টাইলস, সড়ক পথের টাইলস, টেরাকোটা টাইলস সহ কারখানার জন্য অধিক ভার ধারনে সক্ষম টাইলস ও উৎপাদন হয় এখানে। দুটি কারখানা মিলে ১১০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করছে। এটি একটি কারখানা হলেও পরিবেশ কিন্তু নিরিবিলি। নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই কারখানার ইট বা ব্লক তৈরির ক্ষেত্রে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।
এবং বাড়ি নির্মাণে খরচ ও কম এবং সক্ষমতা ও বেশি। ১৯৯৮ সালে গড়ে ওঠা কনকর্ডের এই কারখানা তৈরি ইট দিয়ে কতটা ভবন নির্মাণ হয়েছে বা এ ইটের প্রয়োজনীয়তা কি..?
কনকর্ড গ্ৰুপের সূত্র বলছে কনকর্ড গ্ৰুপের চেয়ারম্যান এস এম কামাল উদ্দিন ১৯৭৩ সালে গড়ে তোলেন এই প্রতিষ্ঠান টি। এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নির্মাণ করেছে কনকর্ড। তার মধ্যে সাভারের স্মৃতিসৌধ, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর,শিল্প ব্যাংক ভবন,ইনডোর স্টেডিয়াম, আইডিবি ভবন, কনকর্ড পুলিশ প্লাজা অন্যতম। দূষণের ফলে আজ পৃথিবী এমন একটি জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে সেটা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব কিনা তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে সন্দেহ আছে। বৈশ্বিক ভাবে পরিবেশ যে ভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে তাতে আর পিছু হটার সুযোগ নেই। বৈশ্বিক আবহাওয়া আরো উষ্ণ হয়ে ওঠছে। মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করেছে। সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও বাড়তে শুরু করেছে তাই সরকার ও বড় বড় কোম্পানি গুলো কি করবে তা ভেবে বসে থাকলে চলবে না। এখন সময় এসেছে প্রত্যেকের দায়িত্ব নেয়া।
0 تعليقات