Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

কিভাবে ঘোড়া সাপের কামড় থেকে মানুষ কে বাঁচায়?

Image Source: YouTube 

আমাদের দেশে প্রতিবছর অনেক মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিবছর সাপের কামড়ে মারা যায় ৬,০৪১ জন। এবং বিশ্বব্যাপি মারা যায় ১ লাখেরও বেশি মানুষ। সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা আফ্রিকার পরে ভারত মহাদেশে সবচেয়ে বেশি। এই সব অঞ্চলে মৃত্যুর হার বেশি হওয়ায় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কুসংস্কারকে বিশ্বাস করে বলে। এই ভারত উপমহাদেশে এখনও ৮৬ শতাংশ মানুষ ওঝার কাছে যায়। চিকিৎসকের কাছে যায় মাত্র ৩ শতাংশ। অথচ সাপের কামড়ের চিকিৎসায় সবচেয়ে কার্যকরী হচ্ছে অ্যান্টিভেনম যা সঠিক সময় সঠিক ভাবে প্রয়োগ করা গেলে শতভাগ সুফল পাওয়া যায়। 
অনেকে জানেন অ্যান্টিভেনম তৈরিতে ঘোড়াকে ব্যবহার করা হয়। চলুন জেনে আসি ঘোড়ার মাধ্যমে কিভাবে এবং কেন অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয়।
আজ থেকে প্রায় ১৩০ বছর আগে অ্যান্টিভেনম আবিষ্কার করেন ফ্রান্সের ব্যাকটেরিয়া বিজ্ঞানী আলবার্ট ক্যালমেট।
ফ্রান্সের ব্যাকটেরিয়া বিজ্ঞানী আলবার্ট ক্যালমেট; Image Source: YouTube 

ভিয়েতনাম ছিল তখন ফ্রান্সের উপনিবেশ। আলবার্ট ক্যালমেট তখন ভিয়েতনামের সাইগনে লুই পাস্তুর আবিষ্কৃত র‍্যাবিস ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছিলেন। আলবার্ট লক্ষ করলেন বর্ষাকালে সাইগনে নিম্মাঞ্চলে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায় এমন সময় সাপের কামড়ে অনেক মানুষ মারা যায়। তিনি আরো লক্ষ করলেন সাপের কামড়ে মানুষ মারা গেলে ও স্থানীয় গাধা কিংবা ঘোড়ার কোন সমস্যা হচ্ছে না। তিনি বিষয়টি নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন। আলবার্ট এক সময় আবিষ্কার করলেন গাধা ও ঘোড়ার দেহে প্রকৃতি গত ভাবে সাপের বিষ ধ্বংস করার জন্য প্রচুর অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হয়। যার ফলে গাধা ও ঘোড়া মরে না। আলবার্ট প্রথমে গোখরা সাপে কামড় দেওয়া গাধার শরীর থেকে রক্ত নিয়ে সেই রক্ত থেকে অ্যান্টিবডি সংগ্ৰহ করলেন।
১৯৯০ সালে আবিষ্কৃত সেই পদ্ধতিতে এখনো বাণিজ্যিক ভিত্তিতে অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করা হয়।অ্যান্টিভেনম প্রস্তুতির প্রথম পর্যায়ে একটি বাক্সের মুখে প্লাস্টিক অথবা কাগজ আটকিয়ে সেখানে সাপের দাঁত ঢুকিয়ে বিষ সংগ্ৰহ করা হয়। একই সাপ হতে এভাবে সপ্তাহে একবার পূর্ণ পরিমাণে বিষ পাওয়া যায়। দ্বিতীয় ধাপে সংগৃহীত সাপের বিষ মাইনেস বিশ ড্রিগ্ৰি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হয় যেখানে বিষ থেকে জলীয় অংশ আলাদা করা যায়। পৃথিবীতে অল্প সংখ্যক প্রাণী রয়েছে যারা নিজের শরীরে সাপের বিষ প্রতিরোধের ঔষধ তৈরি করতে পারে যার মধ্যে রয়েছে গাধা,ভেড়া ছাগল, ঘোড়া, খরগোশ,বেজি, মুরগি, উট, ও হাঙ্গর।
তবে এসব প্রাণীদের বিশেষ কিছু কারণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় ঘোড়া। খামারে ঘোড়াকে পূর্বে সংগ্রহ করা সাপের বিষ নির্দিষ্ট মাত্রায় ইনজেকশনের মাধ্যমে ধমনী তে প্রবেশ করানো হয়। এতে ঘোড়া মরে না তিন চার দিন অসুস্থ থাকার পর ঘোড়াটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। অর্থাৎ ঘোড়ার শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গিয়েছে। এই পর্যায়ে ঘোড়া থেকে রক্ত সংগ্রহ করতে হয়। প্রতিটি ঘোড়া থেকে গড়ে ৬ লিটার রক্ত নেয়া হয়। এরপর সেই রক্ত থেকে প্লাজমা আলাদা করা হয় আলাদা করা প্লাজমা থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক উভয়ে অ্যান্টিভেনম বিশুদ্ধ করা হয়।___ একদম শেষ পর্যায়ে শিশিতে ভরে অ্যান্টিভেনম বাজারে সরবরাহ করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে সাপের কামড়ে রোগীর চিকিৎসার জন্য স্থানীয় সাপের থেকে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হলে তা সবচেয়ে কার্যকর হয়। কারণ এক একটি দেশের সাপের প্রকৃতি একেক রকম। এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য অ্যান্টিভেনম আনা হয় ভারত থেকে। যেসব অ্যান্টিভেনম বেশিরভাগই অকার্যকর। তবে ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে অ্যান্টিভেনম গবেষণা শুরু হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে অ্যান্টিভেনম বাণিজ্যিক ভাবে তৈরি করা যাবে।

إرسال تعليق

0 تعليقات