জলপ্রপাত, থেকে হিমবাহ, তুষার আবৃত পর্বত থেকে অপার সৌন্দর্য সমুদ্র সৈকত কি নেই দেশটি তে? উদার প্রকৃতি অপার সৌন্দর্য উম্মোচিত এইখানে। খুব কাছ থেকে তিমি মাছ দেখা। ইচ্ছেমত বরফে গড়াগড়ি কিংবা স্কিল করা। কিংবদন্তি বিপ্লবী কমরেড চে গুয়েভারা’র জন্ম স্থান।,মেসি ও মেরাডোনার শহর। প্রেমে পূর্ণ যুগল ট্যাঙ্গো। এই সব কিছু মিলিয়ে আর্জেন্টিনা।
আয়তনে দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশটিতে প্রথম মানুষের পা পড়ে দশ হাজার বছর পূর্বে। আধুনিক আর্জেন্টিনার ইতিহাস ১৬ শতকে স্পেনীয় উপনিবেশিক করণের মাধ্যমে। প্রায় তিন শতাব্দী উপনিবেশিক শাসনের পর ৯ বছর সংগ্ৰামে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। এবং হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা রিপাবলিক। অভ্যন্তরিন সংঘাতময় রাজনৈতিক ইতিহাসের কারণে ঘন ঘন ক্ষমতার পালাবদল। এক সময়ে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ টি ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে যায়। বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকট পুনরুদ্ধারের চেষ্টা পুনরায় চালিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত উচ্চ আয়ের দেশ আর্জেন্টিনা।
পর্যটকদের মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় ভ্রমণের জায়গা হচ্ছে এই দেশ টি। রাজধানীর বুয়েনস এইরেস প্রাচীন ও আধুনিক ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলী গড়া অপূর্ব এক শহর। ঐতিহ্য বহন করে ফ্যাশনের নাচ ট্যাঙ্গো। জুটি বেঁধে নাচের মধ্যে দিয়ে নারী পুরুষ উভয়েই প্রকাশ করে পরস্পরের প্রতি ফ্রেম ও ভালোবাসা। তাই ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ট্যাঙ্গো। এটি বর্তমানে আর্জেন্টিনার গন্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপীয় বেশ কিছু দেশে।
আরো পড়ুন;
• বাহারি রঙের মান্দারিন হাঁসের জানা-অজানা কিছু তথ্য
• যে ছবির ইতিহাস এখনো অনেকের কাছে অজানা
রাজধানীর খুব কাছে ফুটবল ঈশ্বর খ্যাত দিয়েগো ম্যারাডোনার লানোস শহর আর মেসির শহর রোসারিও অবস্থিত মধ্যবর্তী সান্তা ফে প্রদেশে। এই দুটি শহর যেন ফুটবল ভক্তদের তীর্থ। আর্জেন্টিনা আর ফুটবল দুটি সমার্থক শব্দ।
বিল্পবের প্রতিচ্ছবি কমরেড চে গুয়েভারা। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের মানুষের দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করতে অর্থনৈতিক বৈষম্য গুড়িয়ে মানুষ কে মুক্তি দিতে বেঁচে নেন বিপ্লবের পথ। এই কিংবদন্তি বিপ্লবের শহর ও রোসারিও।
ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্ম গুরু ভ্যাটিকানের নাগরিক পোপ ফ্রান্সিসের জন্ম বুয়েনোস আইরেসে। তিনি ভ্যাটিকানের নাগরিক। সুতরাং, এসব বিখ্যাত মানুষ ও বিভিন্ন ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে আর্জেন্টিনায় আছে অনেক গুলো জাদুঘর।
দর্শনীয় জায়গা গুলোর মধ্যে দর্শকদের সবচেয়ে বেশি যে জায়গা গুলো আকর্ষন সেটি হলো 'ইগুয়াজু জলপ্রপাত'। ২৭৫ টি আলাদা জলপ্রপাত ও ঝর্ণার মিলনে তৈরি হয়েছে এটি। একি সাথে জলপ্রপাত, পাহাড় ও ঝর্ণার সৌন্দর্য্য অভিভূত করে। এটি দেখতে বছরে প্রায় দশ লাখ পর্যটক আসেন আর্জেন্টিনায়। শুধু দর্শনধারী নয় গুনে মুগ্ধতা ছড়ায়। দেশ টিতে শতকরা ৯৮ ভাগ মানুষ শিক্ষিত। খ্রিস্টান ধর্ম নাগরিকদের প্রধান ধর্ম হলেও সেখানে কোন রাষ্ট্র ধর্ম নেই। দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম ইহুদি ও বৃহত্তম মুসলিম সম্প্রদায় রয়েছে এই দেশটিতে।
0 মন্তব্যসমূহ