![]() |
| Image Source: Youtube |
এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে বিপুল অংকের অর্থ খরচ করেছে কাতার সরকার।স্টেডিয়াম তৈরি করা থেকে শুরু করে অবকাঠামগত উন্নয়ন সবই করেছেন নতুন করে। এই বিশ্বকাপে আয়োজনে তারা খরচ করেছেন ২২০ বিলিয়ন ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় কনভার্ট করলে দাঁড়ায় ২২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। যেটা কিনা বিশ্বকাপ আয়োজনের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আয়োজন ছিল।
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ আয়োজনে যে পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে কাতার তার চেয়ে তিনগুণ অর্থ বেশি খরচ করেছে। শুধু তাই নয় ১৯৯৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত ৭ টি বিশ্বকাপের একত্রিত খরচকেও হার মানিয়েছে কাতার। বিশ্বকাপ আয়োজনের পেছনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছেন তার চেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন কাতার।
কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ সিইও নাসের আল-খাতার বলেন এই বিশ্বকাপ থেকে কাতারের সম্ভাব্য আয় দাঁড়াবে ১৭ শত কোটি ডলার। তবে এই বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন পর্যটন, হসপিটালিটি, লোকাল ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস সহ আরো অনেক খাত। বিশেষ করে দেশটিতে যে পরিমাণ পর্যটকের ঢল নেমেছে তাতে করে ব্যাপকভাবে লাভবান হয়েছে দেশটি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাইট ফ্র্যাঙ্ক বলছে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২ উপলক্ষে কাতারে ১৫ লক্ষ লোকের সমাগম হয়েছে। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে দেশটিতে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়া কাপ। সাথে বাড়তে থাকবে পর্যটকের সংখ্যা।
এমনকি ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশটির হোটেল ও হসপিটালিটি খাতে প্রবৃদ্ধি হার ১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। এই খাতের মূল্য দাঁড়াবে ৫৫ বিলিয়ন ডলার। যা কাতারের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখবে। প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায় এতে ২০২৩ সালে কাতারে পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৫৪ লাখ। এবং ২০৩০ সাল নাগাদ দেশটিতে পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে হবে ৭০ লাখ।
তবে এই বিশাল কার্যক্রম আয়োজন করতে ১১ বছরে অবকাঠামো উন্নয়ন বাবদ ব্যয় করেছেন ২২৯ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে এ আয়োজন থেকে ব্যাপকভাবে লাভবান হয়েছেন ফুটবল সংস্থা ফিফা। কাতার বিশ্বকাপ ঘিরে কেবল বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে ৭৫০ কোটি ডলার আয় করেছেন ফিফা।
আরো পড়ুন;
• বিশ্বকাপ জিতিয়ে গোল্ডেন গ্লাভস পেলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস
• কাতার বিশ্বকাপের প্রাইজমানি, কে কত টাকা পেল
• 974 স্টেডিয়াম অনুদান হিসেবে পেতে কাতারের সাথে বৈঠক বসেছে বাফুফে
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের আয়োজনের তুলনায় এটি অন্তত ১০০ কোটি ডলার বেশি আয় ফিফার। ফিফার আয় আসে মূলত ৫ টি ক্যাটাগরি থেকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো টিভি সম্প্রচার স্বত্ব, বিপণন অধিকার,সেবা অধিকার, টিকিট বিক্রি,ও নিবন্ধন অধিকার ও অন্যান্য লাভ। আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ টা আসে টিভি সম্প্রচার স্বত্ব থেকে। এটা থেকে ফিফার আয়ের মোট অবদান প্রায় ৫৬ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ শতাংশ আসে বিপণন খাত থেকে। আর বাকি ১৫ শতাংশ আসে অন্যান্য খাত থেকে।
ফিফার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপের সময় টিভি সম্প্রচার স্বত্ব থেকে তাদের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬৪ কোটি ডলার, বিপণন অধিকার বিক্রি থেকে আয় ধরা হয়েছিল ১৩৫ কোটি ডলার। সেবা ও টিকিট বিক্রি থেকে ৫০ কোটি এবং নিবন্ধন অধিকার বিক্রি থেকে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ডলার।
খেলার স্পোর্টস সমীক্ষা বলছে এবারের বিশ্বকাপের ম্যাচ গুলোতে টিকিটের দাম ছিল সর্বকালের সবোর্চ্চ। অর্থাৎ এর আগে এত টাকার টিকিটের বিনিময়ে খেলা দেখতে হয়নি ফুটবল প্রেমীদের। জার্মানী সংস্থাটির হিসাবে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের তুলনায় ২০২২ বিশ্বকাপে টিকিটের দাম ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ছিল। কাতার বিশ্বকাপে ফাইনাল ম্যাচের প্রতিটি টিকিটের গড় মূল্য ছিল ৬৮৪ পাউন্ড যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ২৭ হাজার টাকার ও বেশি। ফলে গোটা টুর্নামেন্টে প্রতিটি আসনের জন্য গড়ে ২৮৬ পাউন্ড দামে ৩০ লাখের ও বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে ধরলে এই খাত থেকে ফিফার আয় হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এই খাতে পূর্বের ধারণার চেয়েও দ্বিগুণ অর্থ বেশি আয় হয়েছে সংস্থাটির।

0 মন্তব্যসমূহ