Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

আইএমএফের ঋণ বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? IMF LOAN

Image source: Reuters 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যে খারাপ হয়েছে সেটা বোঝার জন্য অর্থনীতিবিদ হওয়ার কোন দরকার নেই। দৈনন্দিন যাপনে টের পাওয়া যায় সবকিছু চলে যাচ্ছে নাগালের বাইরে খাদ্য পণ্য থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ সে হিসেবে বাড়েনি বেশিরভাগ মানুষের আয়। ব্যাক্তি থেকে রাষ্ট্র পর্যায়েও গেলে দেখা মেলে একি চিত্র।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে, প্রবাসী আয় কমেছে, রপ্তানি আয় কমে গেছে কয়েক গুণ, প্রবৃদ্ধির গতি কমে গেছে অন্যদিকে বেড়েছে

আমদানি ব্যয়, ডলারের দাম

এবং বেড়েছে মূল্যস্ফীতির হার।

অর্থনীতির এই নাজুক অবস্থা সামলে উঠতে অনেকটা বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর কাছে গেছে। শুধু আইএমএফ এ নয় ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এবিবি, এবং জাইকার মতো মুদ্রা তহবিল গুলো থেকে অন্তত ৭০০ কোটি অর্থ সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশ। সবার আগে আইএমএফের কাছ থেকে সাড়ে চারশো কোটির ডলার ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছে। বরাবরের মতোই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত বেঁধে দিয়েছে আইএমএফ।

কিন্তু এর মধ্যে কিছু শর্ত জনগণের জন্য ভোগান্তি নিয়ে আসে আর কিছু শর্ত আছে যেগুলো পূরণ করতে গেলে শাসকদের স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন প্রশ্ন হল এই ঋণ বাংলাদেশের নাজুক অবস্থার কতটা সামাল দিতে পারবে। ঋণের শর্তগুলো কতটা স্বস্তির বা কতটা অস্বস্তির। আইএমএফ কিছু কিছু শর্তে শিথিলতা দেখালেও। আর কিছু শর্তে নমনীয় হয়না একটু ও।

বিশ্লেষকরা বলছেন দেশে দুর্নীতি দমন করতে হবে , সুশাসন ফেরাতে হবে এবং নানা খাতে সংস্কার করতে হবে। এমন শর্ত বছরের পর বছর দিয়ে আসছে আইএমএফ সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল গুলো।

আজ পর্যন্ত এই সংস্কার গুলো পুরোপুরি হয়নি এবং না করলেও কখনো ঋণ প্রক্রিয়া থেমে থাকে নি। অন্যদিকে তারা সবচেয়ে কঠোর জন সম্পৃক্ত বিষয় গুলোর দিকে। যেমন বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণ।" সরকারি সেবার বেসরকারিকরণে তাদের ব্যাপক জোর এবং সবকিছুই করতে হবে বিক্রি জন্য।

যেমন তার মধ্যে একটি শর্ত হল জ্বালানি তেলে ভর্তুকি ক্ষমতা হবে। এবং মূল্য সমন্বয়ের ব্যবস্থা কে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করতে হবে। যার ফলে সবকিছুর দাম বেড়ে যাবে আরো। সুতরাং এর প্রভাব পড়বে সরাসরি জনগণের উপর।

গ্যাস বিদ্যুতের ক্ষেত্রে একি ব্যবস্থা। যদিও সরকার কৃষিতে ভর্তুকি না কমার ব্যাপারে যুক্তি দেখিয়েছেন। আবার ডলারের দাম এখন সরাসরি বাজারের উপর ছেড়ে দিলে সেটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা বলা মুশকিল এবং তার প্রতিক্রিয়ায় দেশের মূল্যস্ফীতির সহনীয় পর্যায় নাও থাকতে পারে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণের কিস্তি না দিলে ৯০ দিনের মধ্যে খেলাপি করার প্রস্তাব আইএমএফ'র তবে কৃষি ও এসএমই খাতে যে ঋণ পরিশোধ যে সুবিধা দেয়া হচ্ছে সেখানে প্রস্তাব বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নেতিবাচক প্রভাবে ফেলবে। কিন্তু অর্থনীতির মৌলিক যে জায়গা থেকে এসব সমস্যা তৈরি হল ব্যাংকিং সেক্টর, মেগা প্রকল্প, দায়বদ্ধতার অভাব, সচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব, সম্পদ পাচার সে জায়গা গুলোতে তারা ততটা কঠোর না। আইএমএফের ঋণ বাংলাদেশ নিয়েছে ১০ বার, পাকিস্তান নিয়েছে ২২ বার, এবং শ্রীলঙ্কা নিয়েছে ১৬ বার। অর্থাৎ দেশ গুলোর দিকে তাকালে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করলে বোঝা যায়। ঋণ নিলে সাময়িক সমস্যা মিটবে বটে কিন্তু পরিস্থিতির উত্তোরণ পুরোপুরি ঘটবে না। যতদিন না সমস্যার গোড়া থেকে সমাধান করা না হবে।

إرسال تعليق

0 تعليقات