![]() |
| Image Source: Pixabay |
পূর্নিমার রাতে চাঁদ যেন আরো স্পষ্ট ও বড় হয়ে ওঠে। চাঁদের জাদুময় আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তখন পৃথিবীর উপর চাঁদের প্রভাব আরো বেশি টের পাওয়া যায়। পূর্নিমার চাঁদ দেখলে নেকড়ে জোরে জোরে চিৎকার করে কোরআন এটা নিয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা আছে। এই সকল প্রাণীরা চাঁদের আলোর ভিত্তিতে সত্যি নিজেদের ছন্দ তৈরি করে। চাঁদ ভিত্তিক সেই অন্তরের গড়িটা কতটা নিখুঁত ভাবে কাজ করে সেটা অস্ট্রেলিয়া গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়।
প্রতিবছর গ্ৰীষ্মের শুরুতে চাঁদ সেই প্রাচীরের প্রবালের বংশবৃদ্ধির ট্রিকার হিসেবে কাজ করে। পূর্নিমার ঠিক পরে কোন এক নির্দিষ্ট দিনে প্রবাল একই সময় ডিম্বাণু ও শুক্রাণু সমুদ্রের মধ্যে ছেড়ে দেয়। ফলে সেগুলো নিষিক্ত করন সম্ভব হয়। রাতের আলোর বিশাল উৎস হিসেবে চাঁদ পৃথিবীর জীবজগতে কে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে থাকতে সাহায্য করে।
কিন্তু মহাকাশে চাঁদের ভূমিকা কি? বা চাঁদ পৃথিবীর পদক্ষিণ করা বন্ধ করে দিলে কি হবে?
সেই পরিবর্তনের ফলাফল হবে খুবই মারাত্মক। সেই ক্ষেত্রে পৃথিবী তার নিজস্ব ছন্দ হারিয়ে লাটিমের মতো বৃতকার ঘূর্ণন করতে থাকবে। তখন কোন কিছু আর আগের মতো থাকবে না। পৃথিবীর অক্ষ অনেকটা হেলে যাওয়ায় উত্তর মেরু তিন মাস ধরে সূর্যের আলোর মুখ দেখবে না। এর ঠিক ছয় মাস পর সেই অঞ্চলে দিন রাত আলো থাকবে। এর ফলে একবার করে তীব্র শীত ও উত্তাপ দেখা যাবে। কোন জীবের পক্ষে এমন চরম তাপমাত্রা সাথে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। এর পরিনতি হিসেবে বায়ুমণ্ডলে অকল্পনীয় ঝড় জলোচ্ছ্বাস দেখা দেবে। প্রলয়ের মতো বৃষ্টি সবকিছু তছনছ করে দেবে। অর্থাৎ চাঁদ না থাকলে পৃথিবীর বুকে জীব জগতের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে ওঠবে।
একমাত্র চাঁদের কারণে পৃথিবীর অক্ষ স্থিতিশীল রয়েছে। পারস্পরিক অভিকর্ষের কারণে স্থিতিশীল এক ছন্দ বজায় রয়েছে। সেই কারণে স্থিতিশীল জলবায়ু অঞ্চল বিকাশ সম্ভব হয়েছে। শীতল, উষ্ণ, ও নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশের সাথে উদ্ভিদ ও প্রাণী জগৎ নিজেদের মানিয়ে নিতে পারছে।
চাঁদের শক্তিশালী অভিকর্ষের টানে সমুদ্রের পানি এমনকি আমাদের পায়ের নিচের মাটির ও সঞ্চালন ঘটে। সমুদ্রের পানি ফুলে ফেঁপে ওঠলে মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় আধ মিটার উঁচু হয়ে ওঠে। পৃথিবীর আবর্তনের সময় চাঁদ সবকিছু ধরে রাখে। চাঁদ না থাকলে পৃথিবী তিন গুণ গতিতে আবর্তন করতো। জোয়ার ভাটার মাধ্যমে চাঁদের প্রভাব গুলো তখন আরো স্পষ্ট ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। সেই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে পারলে ভালো ভাবে জীবন কাটানো যায়। কারণ সমুদ্রের তলদেশের তুলনায় জোয়ার ভাটার ঠিক মাটির নিচে দশ গুণ বেশি জীব দেখা যায়। চাঁদ এমনকি পৃথিবীতে বন্যা কবলিত ভূমির আয়তন ও নির্ণয় করে।
যদি পৃথিবীর থেকে চাঁদের দূরত্ব আরো বিশ গুণ কম হতো তখন বড় বড় সমুদ্রের সব উপকূল জোয়ারের সময় পানির নিচে তলিয়ে যেতে। রাতের চাঁদ যদি সূর্যের ন্যায় শক্তিশালী মনে হয় তখন জীব জগতের উপর সেই পরিবর্তনের প্রভাব আরো স্পষ্ট ভাবে লক্ষ করা যায়।

0 تعليقات