Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রতি কেজি মাছের পোনা

এটি কুইচ্চা বা ইলি ফিশ; Image source: Youtube  

এটি জাপানের সবচেয়ে দামী মাছ। ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী এই মাছের এক কেজি পোনার দাম বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। হ্যা আপনি ঠিকই শুনেছেন। এটি হচ্ছে ইলি ফিশ। আমাদের দেশে এই মাছের পরিচিতি কুইচা,কুইচ্ছা বা কুঁচিয়া মাছ নামে। কিন্তু কেন জাপানে এই কুঁচিয়া বা ইলি ফিশের দাম এতো বেশি। জাপানের মানুষের কাছে হাজার বছর ধরে কুঁচিয়া একটি জনপ্রিয় মাছ। মাছটি এতোই জনপ্রিয় যে জাপানের এক একটি  রেস্টুরেন্ট বছরের ৪০-৫০ টন কুঁচিয়া মাছ বিক্রি করে থাকে। আগে কুঁচিয়া মাছ জাপান থেকে শুরু করে পূর্ব-এশিয়া জুড়ে প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে এর চাহিদা বৃদ্ধি এবং আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় প্রায় পূর্ণ বয়স্ক কুঁচিয়া মাছ চাইলে ও চাহিদা অনুযায়ী জোগান দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।

১৯৮০ সাল থেকে বিশ্ব ব্যাপী প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে কুঁচিয়া মাছ ধরার পরিমাণ ৭৫ শতাংশের ও বেশি হ্রাস পায়। তাই এখন আলাদা ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল পদ্ধতিতে জাপানে কুঁচিয়া মাছ চাষ করা হয়। তবে কুঁচিয়া মাছ চাষ করার সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হচ্ছে বন্দি অবস্থায় পানিতে এই মাছের প্রজনন প্রক্রিয়া পুরোপুরি সম্ভব হয় না। শুধুমাত্র কিছু নিয়ন্ত্রীত পদ্ধতিতে অল্প পরিমাণে কিছু মাছের পোনা উৎপাদন করা সম্ভব হয়। তাই প্রায় সময় এই খামার গুলো কে প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে সংগ্রহ করা বাচ্চা কুঁচিয়া মাছ গুলো কে গ্লাস ইলের উপর নির্ভর করতে হয়।এই গ্লাস ইল অনেকটা আমাদের দেশে ছোট ছোট চিংড়ির পোনার মতই। ছোট ছোট জাল দিয়ে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের জলাশয় থেকে সংগ্রহ করা হয় এই পোনা গুলো কে। যেটা দেখতে একেবারে সচ্ছ কাঁচের মত। তাই এই ছোট বাচ্চা কুঁচিয়া মাছ গুলোকে বিশেষ যত্নের মাধ্যমে লালন পালন করা হয়। যেখানে প্রতি মূহুর্তে বা প্রতিনিয়ত তাপমাত্রা এবং পানির উপযোগীতা বিশেষ ভাবে নিয়ন্ত্রন করা হয়।

এই মাছের পোনা গুলো কে খাবার হিসেবে দেয়া হয় গম ও সয়াবিন মিশ্রিত বিশেষ খাবার। ব্যয়বহুল ভাবে লালন পালন করা এই মাছ গুলো কে আকার ভেদে ছয় মাস থেকে এক বছর পর বিক্রির জন্য উপযুক্ত করা হয়। পূর্ণ বয়স্ক মাছগুলো প্রতি কেজি ১০ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা ধরে বিক্রি হয়ে থাকে। জাপানে এই মাছের উৎপাদন যেমন ব্যয়বহুল তেমনি খাবার হিসেবে এই মাছের প্রস্তুত প্রক্রিয়া বেশ জটিল। কুঁচিয়া মাছ থেকে সংগ্রহ করা জাপানের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারের নাম হলো ওনাগী কাবায় অখিল।

জাপানের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার "ওনাগী কাবায় অখিল"; Image source: Youtube 

এই খাবার টি তৈরি করা এতোটাই কঠিন যে এর প্রস্তুত প্রক্রিয়া শিখতে একজন বাবুর্চির কয়েক বছর সময় লেগে যায়।

প্রথমে কুঁচিয়া মাছটিকে দক্ষ হাতে কেটে এর ভেতরের কাঁটা গুলো আলাদা করে ফেলা হয়। এরপর সঠিক আকারে কেটে নিতে হয় পুরো মাছ টি যাতে রান্নার সময় ভালভাবে তাপ দেয়া সম্ভব হয়। প্রতিটি মাছ কে রান্নার সময় তিন ভাগ আলাদা আলাদা করে সসের মধ্যে ডুবিয়ে বিভিন্ন তাপমাত্রায় সতর্কতার সাথে প্রস্তুত করা হয়। এই বিশেষ ধরনের খাবার টি তৈরি করার জন্য কাঠ কয়লার আগুন ব্যবহার করা হয়। গ্ৰিল করার সময় এই মাছের পিছ গুলো একটু একটু করে উল্টে এর রং পরীক্ষা করে নেয় অভিজ্ঞ বাবুর্চিরা। টক টকে বাদামী রং ধারণ করলে ভাতের সাথে পরিবেশন করা যায় গ্ৰিল করা এই মাছ টি। প্রতি বাক্স ওনাগী কাবায় অখিল খাবারের দাম পড়ে বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার টাকা। 

সাপের মতো দেখতে লাগলেও কুঁচিয়া আসলে একটি মাছ। এর শরীর লম্বা বেগুন আকৃতির ও স্লাইম নিঃসৃত হয় বিধায় অনেকটা পিচ্ছিল হয়ে থাকে। কুঁচিয়া কে আঁশ বিহীন মাছ মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে গায়ে ক্ষুদ্রা আকৃতির আঁশ বিদ্যমান যার বেশিরভাগই চামড়ার নিচে সজ্জিত থাকে।যে কোন প্রতিকূল পরিবেশ যেমন সল্প মাত্রার অক্সিজেন এবং উচ্চ তাপমাত্রায় এরা দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে। এছাড়া কম গভীর জলাশয়ে এরা সহজে বসবাস করতে পারে। কুঁচিয়া মাছের কৃত্রিম প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য জাপান প্রতি নিয়ত উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত বিশেষ কোন অগ্ৰগতির খবর পাওয়া যায়নি।

إرسال تعليق

0 تعليقات