![]() |
| আমেরিকান গায়িকা জেনিফার গ্রাউট; Image Source: Twitter |
আমেরিকান বিখ্যাত গায়িকা জেনিফারের কন্ঠে যারা কোরআন তেলাওয়াত শুনেছেন সবাই বলেছেন এই কন্ঠস্বর টি মহান আল্লাহর প্রদত্ত এক ঐশি কণ্ঠস্বর। এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। আমি মিশরের বিখ্যাত কারী শায়খ সিদ্দিক আল মিনশাবির তেলাওয়াত খুব বেশি বেশি শুনি সুন্দর ও হৃদয়গ্রাহী তেলাওয়াতে তিনি অদ্বিতীয়। মিনশাবি কন্ঠে তেলাওয়াত এবং সূরা ইউসুফ ও সূরা তাকবীর শুনতে আমার অসম্ভব ভালো লাগে। আমি তাকে অনুসরণের চেষ্টা করি।
জেনিফার কে প্রশ্ন করা হলো তার সবচেয়ে পছন্দের জায়গা কোনটি যেখানে বারবার যেতে মন চায়। তখন আমেরিকান এই গায়িকা বলেন মক্কা এবং মদীনা আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। এর থেকে শ্রেষ্ঠ আর শান্তির কোন স্থান আছে বলে আমার মনে হয়না। মক্কার পবিত্র কাবা শরীফ জিয়ারত করা আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর সময়। আমার মনে হয় আমি ইসলামকে বেছে নেয়নি বরং ইসলামের সৌন্দর্য আমাকে টেনে নিয়েছে। একটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিখ্যাত এই গায়িকা খ্রিস্ট ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়া প্রসঙ্গে নিজের অনুভূতি জানান। তিনি বলেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আগে অন্য কোন ধর্মের প্রতি আমার তেমন কোন আস্থা ছিল না।
আমরা এমন এক জীবন প্রণালী অনুসরণ করি যেখানে বাহ্যিক বিষয়সমূহ কে প্রাধান্য দেওয়া হয়। কিন্তু একজন মানুষ হিসাবে এবং সর্বোপরি একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের আত্মার উন্নতি নিয়ে কাজ করা উচিত। আমরা সত্যিকার অর্থে কেমন এটি শুধুমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জানেন। সেজন্য আমরা একজনের বাহ্যিক দিক দেখে অর্থাৎ ভালো মন্দ বিচার করতে পারি না।
মরক্কোর যুবক সাঈদ জিন্নাহ কে বিয়ে করেছেন এই জেনিফার। এবং তাদের সংসারে কমর নামের এক ফুটফুটে কন্যা সন্তান রয়েছে। কমর শব্দের অর্থ চাঁদ। জেনিফার বলেন ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে আগে থেকেই এই সুন্দর নাম টি আমি আমার মেয়ের জন্য পছন্দ করে রেখেছিলাম। আমার মেয়ের মুখ আমার কাছে চাঁদের মতই উজ্জ্বল এবং সুন্দর। যখন আমার মেয়েকে আমি গর্ভে ধারণ করি তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিই আমার মেয়ের নাম হবে কমর।
বিখ্যাত এই আমেরিকান গায়িকার জনপ্রিয়তা ছিলো আকাশচুম্বী। পুরস্কারে ভরপুর ছিল তার ঘর। ছোটবেলা থেকেই তিনি সঙ্গীত চর্চা করেন কিন্তু আযানের ধ্বনির কাছে পরাজিত হল তার সকল সুর। তাই এখন তার ইচ্ছে সঙ্গীত নয় এখন তার গলায় শোনা যাচ্ছে সুমধুর কোরআন তেলাওয়াত। সঙ্গীত এর পরিবর্তে তার কন্ঠে কুরআনের তেলাওয়াত জয় করে নিয়েছে পুরো বিশ্ববাসীর মন।
আপনি হয়তো ভাবছেন কে এই নারী? কি তার পরিচয়? কোথায় শিখেছে কোরআন তেলোয়াত? কি করেন তিনি? মহাকবি কায়কোবাদ তার আযান কবিতায় লিখেছেন "কে ওই শোনাল মোরে আযানের ধ্বনি,
মর্মে মর্মে সেই সুর বাজিল কি সুমধুর,"
আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনী"।
কি মধুর আযানের ধ্বনি।
কায়কোবাদের বর্ণনা করা সেই সুর এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাঝেমধ্যেই ভেসে আসে। এক নারীর নির্মল ও সুন্দর কন্ঠে কোরআন তেলাওয়াত প্রতিটি হরফ যেন ভেসে আসছে এক মহান হৃদয় থেকে। আর এটি ছুঁয়ে যাচ্ছে সবার মন।
জেনিফার গ্রাউট যুক্তরাষ্ট্রে বড় হয়েছেন। আমেরিকাতে রয়েছে তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। তিনি একাধারে ইংরেজি এবং আরবি ভাষায় গান করতেন। এক আযানের সুর যেন ঝড়ের মতো বদলে দিয়েছে তার জীবন। এবং এই আজানের প্রেমে পড়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
জেনিফার জানিয়েছেন আযানের এই সুরে যে অসম্ভব শক্তি রয়েছে তা আযানকে আধ্যাত্মিকভাবে শ্রবণ না করলে বুঝতে পারবেন না। এই বিখ্যাত গায়িকা জেনিফার জন্ম হয়েছে ১৯৯০ সালের ২১ শে মে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায়। তিনি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের একজন বিশেষ শিল্পী ছিলেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন আমি বেশি প্রভাবিত হয়েছি মুসলমানদের জীবন প্রণালী দেখে। যা একটি মুসলিম দেশে সফর করার সময় দেখেছিলাম। ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষ করার পর আমি মরক্কো যাই। গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে সেখানে গিয়েছিলাম এবং পুরো গ্রীষ্ম সেখানে অবস্থান করেছিলাম। তখন যে বিষয়টি আমাকে প্রথম আকর্ষণ করেছিল সেটি হল আযানের ধ্বনি। যেখানেই যেতাম পাঁচ ওয়াক্ত আযানের ধ্বনি শুনতে পেতাম। তখন আমি জানতে পারলাম আজানের মাধ্যমে সবাইকে নামাজের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিষয়টি আমাকে আন্দোলিত করে। সত্যি বলতে আযানের সুর আমাকে প্রথম ইসলাম গ্রহণের জন্য অনুপ্রাণিত করে।
আযান যেভাবে আমাকে আন্দোলিত করল উচ্চাঙ্গসংগীত তা কোনদিনই করতে পারেনি। আমি দেখেছি অন্যের প্রতি মরক্কোর মানুষের বেশ সম্মানবোধ রয়েছে। সেটিও আমাকে খুব স্পর্শ করে। আমি অনুভব করতে থাকি এখানকার পরিবেশ এবং প্রকৃতি আলাদা একটি বৈশিষ্ট্য বহন করে। মুসলমানদের নীতি ও নৈতিকতা সম্পর্কে জানার জন্য প্রচন্ড আগ্রহ জন্মায় এবং আস্তে আস্তে আমি মুসলমান ধর্মের প্রেমে পড়ে যায়।

0 تعليقات