![]() |
| বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে 'কাসাবা'; Image Source: Facebook |
মাটির নিচে জন্মানো এই শিকড়ের দাম লাখ টাকা। পৃথিবীর প্রায় কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য হিসেবে ভাত বা গমের বিকল্পে এই মূল খেয়ে থাকে। এটি পৃথিবীর উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলের আলু জাতীয় ফল কাসাবা। অনেকটা মিষ্টি আলুর মতো দেখতে এই ফল থেকে তৈরি হয় আটা। আর সেই আটা থেকে প্রস্তত হয় রুটি,চিপস, বিস্কুট,সাবু দানা সহ হরেক রকমের খাবার।
এতদিন আফ্রিকা সহ বিশ্বের বেশ কিছু জায়গায় এর চাষ হলেও এখন পুষ্টিকর এই কাসাবার বাণিজ্যিক উৎপাদন করা হচ্ছে বাংলাদেশে। কাসাবা দেখতে মিষ্টি আলুর মতো লম্বাটে। প্রচলিত মাটির নিচে জন্মে থাকে এই ফল টি। এই ফলের গাছের পাতা অনেকটা শিমুল গাছের পাতার মতো হওয়ায় অনেকেই এটাকে শিমুল আলু বলে থাকেন।
এতদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিচ্ছিন্ন ভাবে কাসাবার চাষ হয়ে আসলেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এর চাষ শুরু করেছেন পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফেজ মোস্তফা কামাল। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শক্রমে ফেলে রাখা ২০ বিঘা জমিতে তিনি এই কাসাবার চাষ শুরু করেন।
মোস্তফা কামালের কাসাবা চাষের জন্য জমিতে পানি, সার ও নিড়ানী লেগেছে খুবই কম। জানুয়ারি মাসে চারা রোপণের ৯ মাস পর প্রতিটি গাছে এসেছে বাম্পার ফলন। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের শেষের দিকে ঘরে তুলতে পারবে কাসাবা।
প্রতিটি গাছে আনুমানিক ১৫-২০ কেজি কাসাবা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসেবে প্রতি বিঘা জমিতে ৪-৫ লাখ টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে এমনটাই জানান মোস্তফা কামাল। কাসাবার পাশাপাশি তিনি ইতিমধ্যেই পেঁয়াজের চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এই গাছের কোন অংশ ফেলনা নয়। কাসাবার পাশাপাশি এর পাতা সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায়।
কাসাবা গাছ দিয়ে তৈরি হয় গো-খাদ্য ও জৈব সার। আর কাসাবা থেকে তৈরি হয় সাবু দানা,বার্লি সহ পোশাক ও ঔষধ শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল। দেশে যাতে এসব কাঁচামাল সহজে তৈরি করা যায় বিধায় এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান ফসল উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক খন্দকার মোখলেছুর রহমান।
কাসাবা মূলত একটি খরা সহনশীল গাছ। বৃষ্টিবিহীন সময়ে ১৫-২০ দিনের মাথায় পানি পেলে ফলন বৃদ্ধি পায়। কাসাবার বংশবিস্তার সাধারণত স্টেম কাটিংয়ের মাধ্যমে করা হয়। আট থেকে বারো মাসে ৩-৪ সেন্টিমিটার পুরু পোকামাকড় মুক্ত কান্ড চারা তৈরির জন্য আদর্শ।
স্টেম কাটিং পদ্ধতিতে কাসাবা চাষে মোস্তফা কামাল কে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন উপজেলার কৃষি বিভাগ। একসময় স্থানীয়রা মোস্তফা কামালের কাসাবা চাষ নিয়ে হাসি ঠাট্টা করলেও এর ফলন ও উচ্চ মূল্যের কথা জানতে পেরে নিজেরাই এখন উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন এই কাসাবা চাষে।

0 تعليقات