Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

বুধ গ্রহের পথে বেপি কলম্বো

বেপি কলম্বো; Image Source: Space.com


সূর্যের খুব কাছের গ্ৰহ বুধ ২০১৮ সালে বুধের উদেশ্য যাত্রা করে বেপি কলম্বো। এবং বুধের কক্ষ পথে সেটি সাত বছর পর গিয়ে পৌঁছাবে। কিন্তু সূর্যের তীব্র অভিকর্ষ শক্তির ফলে সেটি কি আদৌ পৌঁছতে পারবে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ) জাপানের মহাকাশ সংস্থা (জেএএক্সএ) সাথে যৌথভাবে বেপি কলম্বোর প্রকল্পে ১০০ কোটি ইউরো বিনিয়োগ করেছেন। কারণ বুধ গ্রহ পৃথিবী থেকে বেশি দূরে না হলেও সূর্যের খুব কাছের গ্ৰহ টি পরীক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ। বুধ গ্রহ সূর্য থেকে আলাদা থাকায় পৃথিবী থেকে টেলিস্কোপের মাধ্যমে সেটা পর্যবেক্ষণ করা কঠিন। সেই গ্ৰহের উদ্দেশে যাত্রা পথে সূর্যের তীব্র অভিকর্ষ শক্তি বড় বাধা বটে।

জার্মান ডাসেলডর্ফ শহরে সব ইউরোপীয় মহাকাশ অভিযানের উপর নজর রাখা হয়। বেপি কলম্বো যাতে বুধ গ্রহের কক্ষ পথে আরো কাছে ও সহজে পৌঁছাতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে ইঞ্জিনিয়ারদের জটিল এক যাত্রা পথ স্থির করতে হয়েছে। গন্তব্য পৌঁছাতে প্রায় সাত বছর সময় লাগার কথা। মারকার বা বুধ গ্রহে ওড়ার মহাকাশ যাত্রার ইতিহাস এক নতুন স্বপ্ন উম্মোচন করবে। 

বেপি কলম্বো ইতিমধ্যে দু'বার শুক্র গ্রহের পাশ দিয়ে উড়ে গেছে। প্রতিবার কিছুটা গাণিতিক এনার্জি ক্ষতি হয়েছে। এভাবে বুধ গ্রহের কক্ষ পথের কাছে যেতে পারছে। বেপি কলম্বো দুই বার বুধ গ্রহের ২০০ কিলোমিটার কাছ দিয়ে উড়ে গেছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে যান টি বুধ গ্রহের সাথে কয়েকটি সেলফি ও ছবি তুলেছেন। কিন্তু এই যান টির গতি এখনো অত্যন্ত বেশি। বুধ গ্রহের মাধ্যাকর্ষণের টান কে কাজে লাগিয়ে যান টিকে সব মিলিয়ে ৬ বার সুইং বাই মেনু বার কায়দায় নিজস্ব শক্তি কমাতে হবে।

সাত বছর উড়ানোর পর অবশেষে সেটি বুধ গ্রহের কক্ষ পথে প্রবেশ করবে এবং দুটি পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট হিসেবে দুভাগে বিভক্ত হবে। তখনি মূল চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে। কারণ পৃথিবীর তুলনায় বুধ গ্রহে সূর্যের বিকিরণের তেজ ১০ গুণ বেশি।

তাছাড়া বুধ গ্রহে দিনের বেলায় তাপমাত্রা ৪৮০ ডিগ্ৰি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ দুটি স্যাটেলাইট কে তীব্র উত্তাপ সহ্য করতে হবে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার প্রধান এলসা মন্টানিয়ন বলেন আমাদের সামনে এর আগে এত বড় চ্যালেঞ্জ আসে নি। এমন উত্তাপ হাত থেকে সংবেদনশীল যন্ত্রগুলো কে নিরাপদে রাখতে বেপি কলম্বোর জন্য সিরামিক ফাইবার ও টাইটানিয়াম দিয়ে বিশেষ চাদর ডিজাইন করে লাগানো হয়েছে।

২০২৫ সালে সেই আচ্ছাদনের কার্যকারিতা যাচাই করা যাবে। তখন ইউরোপীয় স্যাটেলাইট টি মূলত বুধ গ্রহের উপরিভাগ পর্যবেক্ষণ করবে। পৃথিবী ছাড়া সৌরজগতের একমাত্র গ্ৰহ হিসেবে কেমন মারকার চুম্বক ক্ষেত্র আছে জাপানের অরবিটাল স্যাটেলাইট সেটা জানার চেষ্টা করবে।

إرسال تعليق

0 تعليقات