![]() |
| বাহারি রঙের একটি মান্দারিন হাঁস পানির উপর ভাসছে; Image Source: Pixel |
পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর হাঁসের নাম মান্দারিন। এই হাঁস গুলোর সৌন্দর্য ঠিক রংধনুর মত। স্ত্রী ও পুরুষ মান্দারিন হাঁসের গায়ে দেখা যায় আলাদা আলাদা ধরনের সৌন্দর্য। প্রজননের সময় আসলে পুরুষ হাঁসের ডানায় ভাসে কমলা রং এবং মাথায় থাকে বাদামী চাঁদি ও দুটি খারা পালক থাকে একদম নৌকার মত। স্ত্রী হাঁসের পিঠের রং থাকে অনেকটা জলপাই বাদামি নিচের দিকটা সাদা আর ডোরাকাটা দাগ থাকে বুকে। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর এই হাঁসের জীবন ধারণ ও চলাফেরা সবকিছুই অন্তত সুন্দর। জঙ্গলের মাঝে ছোট ছোট জলাশয়ে বসবাস করে এরা। তবে অন্যান্য হাঁসের মতো গৃহপালিত নয় মান্দারিন হাঁস।
পরিচয়ে পাখি হয়ে তারা ঘুরে বেড়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এর মধ্যে ইংল্যান্ড, আইল্যান্ড এবং জার্মানী অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়ার ভারত এবং নেপালেও দেখা গেছে মান্দারিন হাঁসের আগমন। সাধারণত মিঠাপানির জলাশয় ধানক্ষেতে এবং জঙ্গলের জলাশয়ে ঘুরে বেড়ায় মান্দারিন হাঁস।যেখানে যায় সেখানে ঝাঁক বেঁধে থাকে সবাই। উঁচু উঁচু গাছের কোটরে বাসা তৈরি করে থাকে এরা। সেখানে তাঁরা ঘাস বিছিয়ে পালক ঝুলিয়ে ডিম পাড়ে থাকেন নারী মান্দারিনীরা। ডিম গুলো হয়ে থাকে পীতাভ রঙের। ৩০ দিন পর্যন্ত ডিম ফুটে বের হয় ফুটফুটে হাঁসের ছানা। সব গুলো ডিম ফুটার পর পর মান্দারিন হাঁসের ছানা গুলো মাটি থেকে ডোবায় ছাড়ার জন্য তখন গাছের উপর থেকে শূন্য ঝাঁপ দেয় সব গুলো ছানা।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো কোন ধরনের আঘাত ছাড়া ছানা গুলো নিরাপদে নামতে পারে মাটিতে। পরিণত মান্দারিন হাঁসের ডানা থাকে বিধায় তাঁরা সহজেই উড়ে উড়ে নামতে পারে কিন্তু সদ্য জন্ম নেওয়া ছানারা প্রথমে ভয় পায় নিচে নামতে কিন্তু ক্ষুধার যন্ত্রণা আর মায়ের উৎসাহে ভয় কে জয় করে নেয় মান্দারিন হাঁসের ছানা গুলো। তারপর মায়ের সাথে পিছু পিছু গিয়ে নামেন কাছের কোন জলাশয়ে এ সময় পুরুষ মান্দারিন হাঁস টি এসে মিলিত হয় বাচ্চাদের সাথে।
দেড় মাসের মধ্যে উড়তে শেখা যায় ছানা গুলো তখন তাদেরকে যুক্ত করা হয় অন্য কোন ঝাঁকের সাথে। মূলত পানিতে থাকা বিভিন্ন ধরনের পোকা মাকড়, কাঁকড়া এবং উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে এরা। তবে সময়ের সাথে সাথে খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনেন এরা। শীতের সময় শস্যবীজ খেতে খুব পছন্দ করেন এরা। গাছের ছায়ায় বসে কিংবা ছায়া আছে এমন পানিতে ধীরে ধীরে সাঁতার কেটে দিনের বেশিরভাগ সময় পার করে থাকেন মান্দারিন হাঁস। এরা খাবার খায় সাধারণত ভোরে এবং একদম শেষ বিকেলের দিকে। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম এই হাঁস গুলো সাঁতার কাটার পাশাপাশি খুব দ্রুত উড়তে সক্ষম। কিন্তু পানির নিচে ডুব দেয়ার তেমন দক্ষতা নেই এদের। মে থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত মান্দারিন হাঁস এর প্রজনন মৌসুম। এ সময় তাদের ডাকাডাকি বেড়ে যায়। পুরুষ মান্দারিন তখন নেচে নেচে আকর্ষণ করেন নারী-সঙ্গীকে।
আরো পড়ুন;
• মুঘল সেনাদের পুষ্টির যোগান দিত বিরিয়ানি
• যে ছবির ইতিহাস এখনো অনেকের কাছে অজানা
• চাঁদ না থাকলে পৃথিবীতে যে সমস্যা গুলো সৃষ্টি হতো
সাধারণত যথেষ্ট সাহসী হয়ে থাকে এই মান্দারিন হাঁস। কোন কিছুকেই তেমন ভয় পায় না এরা। তবে কুকুর, ঈগল ও সাপের সাথে ভয়ঙ্কর শত্রুতা তাদের। একটু অসতর্ক হলেই এসব প্রাণীর শিকার হতে পারেন মান্দারিন। অনন্য সুন্দর এই হাঁস গুলো ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী থেকে। বর্তমানে এদের মোট সংখ্যা ১ লাখের ও কম। তবে তাদের রয়েছে অসাধারণ টিকে থাকার ক্ষমতা। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা ভালো পরিবেশ পেলে আস্তে আস্তে বাড়বে পৃথিবীর সবচেয়ে এই সুন্দর হাঁসের ঝাঁক।

0 تعليقات