Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

কতদিন টিকে থাকবে বিটকয়েনের আধিপত্য

গত এক দশক বা তার চেয়ে বেশি সময় ধরে যে ক্রিপ্টো কারেন্সি নিয়ে সব চেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে তার মধ্যে নিঃসন্দেহে বিটকয়েনের নাম সবার উপরে থাকবে। আলোচনা ও সমালোচনা দাগ কাটে এই ডিজিটাল কারেন্সির উপর। রহস্যময় এক মানব বা গোষ্ঠী যারা গতানুগতিক মুদ্রা ব্যবস্থাকে প্রচন্ড ভাবে ধাক্কা দিতে সক্ষম হয়েছেন। যাকে ঘিরে এই বাজার গড়ে ওঠেছে তার নাম সাতোশি নাকামোতো।


বিটকয়েনের রহস্যময় মহাসাগরের ডুব দেওয়ার আগে ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কে একটু ধারণা নেওয়া যাক?

ক্রিপ্টো কারেন্সি এমন একটি লেনদেন ব্যবস্থা যেখানে কোন ব্যাংক বা সরকার কতৃপক্ষের কোন বালায় নেই। বলা যায় একেবারে স্বাধীন ভাবে লেনদেন হয় ক্রিপ্টোতে। ব্লকচেইন প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া এই ক্রিপ্টো কারেন্সি থাকে ক্রিপ্টো গ্ৰাফি দ্বারা সুরক্ষিত। অনেকেই আবার এটাকে ডিজিটাল সোনা হিসেবে উচ্চারণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এটি এমন একটি লেনদেন ব্যবস্থা যেটাকে হাত দিয়ে ধরা যায় না এবং ছোঁয়া যায় না। অথচ এটার আর্থিক মূল্য আছে।

ইতিহাসের বিনিময় প্রথা এবং বর্তমানের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা ক্রিপ্টো কারেন্সি অনেকটা একই রকমের। দুটি লেনদেনই যেন একটি হাড়ির বদলে এক বস্তা চাল দেওয়ার মতো। তবে এটা নিয়ে বিস্তারিত জানতে হলে আপনাকে ক্রিপ্টো কারেন্সি নিয়ে প্রচুর ঘাঁটাঘাঁটি করতে হবে।


এবার আসি বিট কয়েনের মূল আলোচনায়

বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে যেমন এগিয়ে যাচ্ছে সমাজ ও জীবন, ঠিক তেমনি অর্থনৈতিক গতি প্রবাহের পরিবর্তন ঘটছে দিন দিন। মুদ্রা নামক জিনিসটার পরিবর্তন ঘটছে অনেকবার। সোনা, রোপা, ধাতব পদার্থ থেকে আজকের কাগজি নোট তারপর ক্রেডিট কার্ড ডেবিট কার্ড তা দিয়ে অর্থনৈতিক লেনদেন আরো সহজ হয়ে গেছে। কিন্তু এরপরও মানুষের জীবন কে আরো সহজ করতে এসে গেল আরো কয়েক ধরনের ভার্চুয়াল মুদ্রা।

যেমন বিটকয়েন,ইথিরিয়াম,লাইট কয়েন, রিপল মনেরো,ড্যাশ,বাইট কয়েন,ডোজ কয়েন, ইত্যাদি নিত্য নতুন সব বাহারি নামে পরিচিত পেতে থাকে এই গোপন মুদ্রা গুলো। কিন্তু এত সব বাহারি নাম কে পেছনে ফেলে সবার নজর যে গোপন মুদ্রা টি স্থান করে নিয়েছে সেটা হলো বিটকয়েন। বিটকয়েন এমন একটি মুদ্রা যেটা নিয়ে দেশ ও বিদেশের লোকদের কাছে আগ্ৰহের কোন কমতি নেই। ক্রিপ্টোগ্রাফির প্রটোকলের মাধ্যমে পরিচালিত এই বিটকয়েন নেটওয়ার্ক হলো পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক।

বিটকয়েনের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় অনলাইনের মতো একটি উম্মুক্ত সোর্স সফটওয়্যারের মাধ্যমে। বিটকয়েন মাইনিং প্রক্রিয়ায় চাইলে যে কেউ বিটকয়েন তৈরি করতে পারে।

২০০৭ সালের দিকে শুরু হয়েছে বিটকয়েনের ডিজাইন ও কোডিং যেটি ২০০৯ সালে মুক্ত সোর্স সফটওয়্যার হিসেবে অবমুক্ত করা হয়। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভার্চুয়াল ক্রিপ্টো কারেন্সি গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বিটকয়েন।

বিটকয়েন কে তুলনা করা হয় সোনার সাথে খনি থেকে উত্তোলনের এক পর্যায়ে গিয়ে যেমন স্বর্ণের সরবারহ শেষ হয়ে যায় ঠিক তেমনি বিটকয়েনের ধারণা ও তাই। কেননা বিট কয়েন নতুন করে ২১৪০ সালের পর আর বাজারে আসবে না।

অ্যালগরিদম সমাধানের মাধ্যমে বিটকয়েন উত্তোলন করতে হয়। যা বিটকয়েন মাইনিং হিসেবে পরিচিত। গত ১৪ বছরের ১৮ মিলিয়ন বিট কয়েনের মধ্যে ৪ মিলিয়ন বিট কয়েন বিভিন্ন ভাবে হারিয়ে গিয়েছে। হয়তো ঠিকানা হারিয়েছে নয়তো মালিক ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছে। কিংবা মালিক মরে যাওয়ার আগে হয়তো কাউকে বলে যেতে পারেন নি। কোথায় কত বিটকয়েন জমা ছিল। অন্যদিকে মালিকদের অসতর্কতার কারনে এক বিলিয়ন বিট কয়েন হ্যাক বা চুরি হয়ে গিয়েছিল বাকি ১৩ বিলিয়ন বিটকয়েনের মধ্যে বাকি ৫ বিলিয়ন বিটকয়েন আছে রাঘববোয়ালদের হাতে। 

অজ্ঞাত নামা সাতোশি নাকামোতো নিজেও বিট কয়েন ধারীদের একজন যার ওয়ালেটে ৭৫ লক্ষ থেকে ১ কোটি সম পরিমাণ বিট কয়েন জমা রয়েছে যার বাজার মূল্য ৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে তিনি পৃথিবীর পঞ্চাদশ তম ধনী ব্যক্তি। অথচ তার পরিচয় আজো সবার কাছে অজানা।

কথা হলো বিটকয়েন ঠিক কত দিন তার আধিপত্য ধরে রাখতে পারবে?

ক্রিপ্টো কারেন্সি রাজ্যের বাদশা যদি বিটকয়েন হয় তাহলে রানী হিসেবে সবচেয়ে যুগপৎ প্রার্থী হলো ইথেরিয়াম। মার্কেট ক্যাব দিয়ে বিবেচনা করলে ৪১ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে বিটকয়েন প্রথম এবং ২০ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইথেরিয়াম।

২০০৯ সালে বিটকয়েনের সূচনার পর আস্তে আস্তে কিছুটা খারাপ বা দুর্বলতার মুখোমুখি হতে হয় এই ভার্চুয়াল মুদ্রাটিকে। যেমন একটা ট্রানজেকশন সম্পন্ন করতে ১০ মিনিট বা তার বেশি সময় লাগতো।

বিটকয়েন মাইনিং মূলত পরিবেশ বান্ধব নয়। এবং অনেক ইলেকট্রিসিটির ও অপচয় হয়। এসব সমস্যা সমাধানে লক্ষ্য আরো কিছু ক্রিপ্টো টোকেনের জন্ম হয় যে গুলো ALT কয়েন নামে পরিচিত। ALT কয়েন বলতে বুঝানো হয় মূলত অল্টারনেটিভ কয়েন যেমন প্রথম দিকে ALT কয়েন গুলোর মধ্যে রয়েছে লাইট কয়েন,মনেরো ইত্যাদি। বিটকয়েন শুধু অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কে সেন্ট্রালাইজড করতে চেয়েছিল আর এদিকে ইথেরিয়াম পুরো ইন্টারনেট জগত কে ডি সেন্ট্রালাইজড করে দিচ্ছে।

আমাদের আলোচনা বিটকয়েন বা ইথেরিয়ামের পার্থক্য নিয়ে নয়। ভবিষ্যত মুদ্রা হিসেবে বিট কয়েনের ভবিষ্যতই বা কি তা নিয়ে। বাংলাদেশের মতো এখনো অনেক উন্নয়নশীল দেশ এই গুপ্ত মুদ্রার গুলোর লেনদেনের ক্ষেত্রে কোন অনুমোদন দিচ্ছে না। তারই অবশ্য যথেষ্ট একটা কারণ আছে। বিটকয়েনের এই জনপ্রিয়তার কারণে অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিটকয়েন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতিমধ্যে কয়েক দফা বিট কয়েন লেনদেন নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে এই মুদ্রার লেনদেন ঝুঁকিপূর্ণ। এই মুদ্রার লেনদেনে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসের অর্থায়ন প্রতিরোধে সম্পর্কিত আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। বিটকয়েন ব্যবহার করে অল্প কিছু সময়ের ব্যবধানে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যেতে পারে যা বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য মোটেই কাম্য নয়।


إرسال تعليق

0 تعليقات