| আদানী গ্ৰুফের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা-গৌতম আদানী |
গৌতম আদানী ১৯৬২ সালের ২৪ শে জুন ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে বাবা শান্তিলাল আদানী ও মা শান্তাবেন আদানীর ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন। আদানীর পরিবার আগে থেকে টেক্সটাইল ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। ছোটবেলা থেকে ambitious ও Determined গৌতমের বাবার ব্যবসায় তেমন একটা আগ্রহ ছিল না। শুধু তাই নয় পড়ালেখার প্রতি ও কোন আগ্রহী ছিলেন না আদানীর। যার প্রেক্ষিতে আহমেদাবাদের শেঠ চিমনলাল নগিনদাস বিদ্যালয়, থেকে স্কুল জীবন শেষ করে গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর ডিগ্ৰির জন্য কমার্সে ভর্তি হলেও সেকেন্ড ইয়ারে ড্রপ আউট হন আদানি।
তার মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা এতোটাই জেঁকে বসেছে যে ১৯৭৮ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে আহমেদাবাদ থেকে মুম্বাই চলে যান। সেখানে কিছু দিন ডায়মন্ড ব্রোকার ফার্ম বা মাহিন্দ্রা ব্রাদার্সে ডায়মন্ড সর্টার হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে পরবর্তীতে জাভেরি বাজারে একটি ডায়মন্ড ব্রোকার ফার্ম প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে ব্যবসায়ীক জীবন শুরু হয় তার। এবং এই ব্যবসা দিয়ে মাত্র ২০ বছর বয়সে গৌতম আদানী হয়ে ওঠেন একজন বিলিয়নিয়ার।
অন্যদিকে আহমেদাবাদে গৌতম আদানীর আপন বড় ভাই একটি প্লাস্টিক ফ্যাক্টরি কিনে নেন এবং সেটা পরিচালনা করা জন্য গৌতম আদানী কে ফিরে আসতে বলেন। ভাইয়ের ব্যবসায় সাহায্য করতে ১৯৮১ সালে গৌতম আদানীর আবার আহমেদাবাদে ফিরে আসেন। সেখানে ভাইয়ের ব্যবসা সামলাতে গিয়ে তিনি লক্ষ করলেন লোকাল মার্কেটে পিভিসির বেশ চাহিদা থাকলেও প্রকৃত পিভিসির ঘাটতি রয়েছে অনেকখানি। এবং সেখান থেকে তিনি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পিভিসি আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেন এবং ইনপোর্ট করার জন্য তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় যান।
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ফিরে আদানী ১৯৮৮ সালে (আদানি এক্সপোর্টস লিমিটেড) নামে আরেকটি কোম্পানি খুলেন। যা পরবর্তীতে আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড নামে রিপ্রেজেন্ট করা হয়।
১৯৯০ দশকে ভারত যখন ইকোনমিক রিফর্ম করতে শুরু করে তখন গৌতম আদানীর ব্যবসা খুবই জনপ্রিয়তা পায় এবং দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। যেমন ১৯৯৩ সালে গুজরাটের তৎকালীন সরকার প্রধান মনমোহন সিং প্রতিষ্ঠিত মুন্দ্রা বন্দর টি প্রাইভেট কোম্পানি গুলোর অধীনে চালু করার সিদ্ধান্ত নেন। এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে আরো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গৌতম আদানী তার কোম্পানির মাধ্যমে মুন্দ্রা বন্দর পরিচালনা করার জন্য আবেদন করে। এবং ১৯৯৫ সালে উভয়ের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মুন্দ্রা বন্দরের পাশে একটি স্পেশাল ইকোনমিক জোন রয়েছে যা একত্রে (মুন্দ্রা পোর্ট ও স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড) নামে পরিচালিত হতো। তবে আদানী কন্ট্রাক্ট সফল ভাবে বাস্তবায়ন হওয়ার পর থেকে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় আদানী পোর্টস এন্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড বা (APSEZ)। বর্তমানে এটি ভারতের মাল্টি-পোর্ট অপারেটর।
এছাড়াও ১৯৯৬ সালে আদানী পাওয়ার লিমিটেড নামে আদানী গ্ৰুফ আরেকটি পাওয়ার অব বিজনেস প্রতিষ্টা করেন। এই নতুন প্রতিষ্ঠান টি একি সাথে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাইভেট পাওয়ার প্লান্ট উৎপাদনকারী।
এছাড়াও আদানী গ্ৰীন এনার্জি লিমিটেড ভারতের সবচেয়ে বড় সোলার প্যানেল উৎপাদনকারী। ২০০৯-২০১২ সাল পর্যন্ত আদানী গ্ৰুফ নিজেদের ব্যবসার পরিধি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত করে। এবং অস্ট্রেলিয়ার এবাউট পয়েন্ট পোর্ট এবং কুইন্সল্যান্ডের কারমাইকেল কয়লা খনি নিজেদের তত্ত্বাবধানে নিয়ে নেয়।
আদানী গ্ৰুফের অধীনে বর্তমানে
• Adani Enterprise Ltd
• Adani Ports And SEZ Ltd
• Adani Green Energy Ltd
• Adani Transmission Ltd
• Adani Total Gas Ltd
• Adani Power Ltd
• Adani Wilmar Ltd
নামে মোট ৭ টি শাখা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
আরো পড়ুন;
•রাতারাতি দেউলিয়া ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ব্যানকম্যান-ফ্রাইড
•কিভাবে সফল আজকের মাইক্রোসফট| Microsoft
•ক্লিনার থেকে সবচেয়ে দামী ফুটবল কোচ
২০১৫ সালে আদানী এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের অধীনে একটি আদানী গ্ৰীন এনার্জি শাখা প্রতিষ্টা করা হয়। যা ২০২০ সালে সেপ্টেম্বর মাসে সোলার এনার্জি কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার কাছ থেকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ৬ বিলিয়ন ডলারের সোলার বিড জিততে সক্ষম হয়। একি মাসে আদানী গ্ৰুফ মুম্বাই আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টের ৭৪ শতাংশ মুনাফা আদায় করে নেয়। এছাড়া ২০২১ সালে ব্লুমবার্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গৌতম আদানী জানান আদানী গ্ৰুফ আগামী ৩০ সালের মধ্যে গ্ৰীন এনার্জি ইনস্ট্রাকচারের পেছনে ৭০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে।
এক তথ্যর বিবরণীতে যানা যায় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গৌতম আদানী ৯০.১ বিলিয়ন ডলার Worth নিয়ে মুকেশ আম্বানি কে পেছনে ফেলে এশিয়ার শীর্ষ ধনী ও বিশ্বের ১০ম ধনী ব্যক্তি তালিকায় উঠে আসেন।
সেই বছর মে মাসে আদানি গ্ৰুফ সুইজারল্যান্ডের বেস্ট সিমেন্ট কোম্পানি হোলসিমের ইন্ডিয়ান শাখা টি ১০.৫ বিলিয়ন ডলারের মাধ্যমে নিজেদের অধীনে করে নেয়। টাইম অব ইন্ডিয়ার এক তথ্য সূত্রে ২০২২ সালের শুরুতে যখন আদানির নেট Worth পরিমাণ ছিল ১৩৭.৪ বিলিয়ন ডলার তখন আদানি গ্ৰীণ ও আদানি টোটাল গ্যাসের শেয়ার ১ হাজার শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল।
অন্য দিকে Adani Enterprise Ltd, Adani Transmission Ltd, এবং Adani Ports and SEZ Ltd শেয়ার যথাক্রমে ৭৩০,৫০০, ও ৯৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল।
গৌতম আদানির উত্থানের পেছনের অন্যতম একটি কারণ হলো সঠিক সময়ে পটেনশিয়াল সেক্টরে প্রবেশ করা। শুরুতে গৌতম আদানি ভাইয়ের প্লাস্টিক ব্যবসার সুবাদে পিভিসি ইনপোর্ট ব্যবসা শুরু করেন এবং এর পাশাপাশি এগ্রিকালচারাল কমোডিটি ট্রেডিং ব্যবসা পরিচালনা করেন। এছাড়াও ২০১৬ সালে মোদী সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতি কে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের উন্নতিকরণ করার লক্ষে যে সকল সেক্টর গুলো কে তালিকা ভুক্ত করেছে গৌতম আদানি মূলত সেই সকল সেক্টরে নিজের ব্যবসা পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে সরকারের গোলের সাথে একটি সামঞ্জস্যতা তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়েছে।
ভারতের অর্থনৈতিক উৎপাদন খাতে ভবিষ্যতে আরো বিদ্যুৎতের চাহিদা বাড়বে এমন চিন্তা ভাবনা থেকে আদানি গ্ৰুফের অন্যতম প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার লিমিটেড থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট উৎপাদন ব্যবসা শুরু করেন। এবং বর্তমানে কোম্পানিটির ১২,৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
অন্য দিকে আদানি গ্ৰুফের আরেকটি কনসালট্যান্ট আদানি পোর্ট বা (APSEZ) লিমিটেড বর্তমানে ভারতের ১৩ টি পোর্ট পরিচালনা করে আসছেন যা দেশটির পোর্ট কেপাসিটির মোট ২৪ শতাংশ পর্যন্ত হোল্ড করে।
আদানি গ্ৰুফের এই স্রামজ্য গড়ে তুলতে যে ধরনের ফাইনেন্স দরকার পড়েছিল তা মূলত কোম্পানি গুলো নিজেদের মধ্যে একে অপরকে লোন দেওয়া কিংবা একে অপরের স্টক কিনে নেওয়ার মাধ্যমে করেছিল।
যেমন ২০১৪ সালে আদানি ট্রান্সমিশনের ফান্ডের প্রয়োজন পড়লে আদানি গ্ৰুফের অপর কনসালট্যান্ট আদানি এন্টারপ্রাইজ দুটি শাখার লোন ইকুইটি আকারে আদানি ট্রান্সমিশন কে প্রদান করেন। আর এই ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে আদানি এন্টারপ্রাইজের একটি শাখা আদানি প্রপার্টি আদানি ট্রান্সমিশন থেকে ৯.০৫ শতাংশের একটি স্টক কিনে নেয়। আর আদানি ট্রান্সমিশনের অর্থ Race করতে শেয়ার স্থানান্তর করেছিল কোম্পানি গুলো।
0 تعليقات