Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

974 স্টেডিয়াম অনুদান হিসেবে পেতে কাতারের সাথে বৈঠক বসেছে বাফুফে

রাস আবু আবৌদ স্টেডিয়াম,দোহা; Image Source: Twitter 

আস্ত একটা ফুটবল স্টেডিয়ামকে এক দেশ থেকে আরেক দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শুনতে খানিকটা অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনাটি ঘটতে যাচ্ছে কাতার বিশ্বকাপ কে ঘিরে। হ্যা, কাতারের 974 স্টেডিয়ামটি আসতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। ফুটবল বিশ্বকাপের ২২ তম আসরের জন্য আট টি স্টেডিয়ামের মধ্যেই কনটেইনার দিয়ে তৈরি যে স্টেডিয়ামটি বিশেষ ভাবে সবার নজর কেড়েছে স্টেডিয়াম 974 বাংলাদেশে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কিন্তু কিভাবে কাতার থেকে আস্ত একটি স্টেডিয়াম তুলে বাংলাদেশ নিয়ে আসা যাবে এই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে অনেকের মনে।

চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কিভাবে নির্মিত হয়েছে এই স্টেডিয়াম আর কেনই বা এই স্টেডিয়াম টি নির্মাণ করা হয়েছে ভেঙ্গে ফেলার উদেশ্য এবং কোন চমক লুকিয়ে রয়েছে এর নাম করণের পেছনে আর সেই সাথে জানাবো এই স্টেডিয়ামের সাথে জড়িত আছে বাংলাদেশের নাম।


শত বিতর্ক কে পাশ কাটিয়ে আর চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে কাতারের আট টি স্টেডিয়ামে চলছে বিশ্বকাপের মহারণ। লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ কে ঘিরে যেমন ভক্তদের মাঝে দেখা যাচ্ছে বাড়তি উন্মাদনা তেমনি এবারের বিশ্বকাপের জন্য নির্মিত স্টেডিয়াম নিয়ে কৌতুহলের কমতি নেই ফুটবল প্রেমীদের মাঝে। তবে আট টি স্টেডিয়ামের মাঝে বাড়তি নজর কেড়েছে 974 টি শিপিং কনটেইনার দিয়ে তৈরি বিশ্বের প্রথম অস্থায়ী স্টেডিয়াম টি।

এবারের কাতার বিশ্বকাপ কে স্মরণীয় করে রাখতে ব্যয় করা হয়েছে ২২০ বিলিয়ন ডলার যার সিংহভাগ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বিশ্বকাপের জন্য নির্মিত আট টি স্টেডিয়ামের পেছনে।

সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এই আট টি স্টেডিয়াম। কাতারের অসহনীয় গরম কে স্টেডিয়ামের মধ্যে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ব্যবস্থা করা হয়েছে সবোর্চ্চ প্রযুক্তি। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে স্টেডিয়াম টি রয়েছে সেটি হলো 974 স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত হয় নি কোন আলাদা প্রযুক্তির। শুধুমাত্র এর ডিজাইন ও অবস্থানের কারণে ম্যাচ চলাকালীন সময়ে কোন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হবে না খেলোয়াড়দের। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই স্টেডিয়াম টি হতে যাচ্ছে প্রথম কোন ভেন্যু যা ব্যবহারের পর সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলা হবে। এছাড়া স্টেডিয়াম টিতে মডিউল স্টীল ফ্রেম ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন;

পশুর পাকস্থলী দিয়ে বানানো ফুটবল থেকে আধুনিক ফুটবলের বিবর্তন


কাতার বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ভাঙ্গলো অতীতের সব রেকর্ড


গরীব ঘরে জন্ম নেওয়া ছোট্ট নেইমার এখন বিশ্ব সেরা ফুটবলার


স্টেডিয়াম 974। আগেই স্টেডিয়ামটির নাম ছিল রাস আবু আবুদ পরবর্তী বিশেষ কারণে এর নাম পরিবর্তন করা হয়। স্টেডিয়াম 974 এর বিশেষত্ব হচ্ছে এটি নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে জাহাজের হাজারো কনটেইনার। ভেন্যু টির অবস্থান ছিল দোহা পোর্টের খুব কাছে। আর এ নামের পেছনে অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে 947 হলো কাতারের একটি কোড়। সেই কারণে এই স্টেডিয়াম টি নির্মাণ করতে ৯৭৪ টি শিপিং কনটেইনার ব্যবহার করা হয়েছে।আর এই স্টেডিয়াম নিয়ে কৌতুহলের পেছনের অন্যতম কারণ হলো বিশ্বকাপের পর যেমন স্টেডিয়াম টিকে ভেঙে ফেলা হবে তেমনি পুনর্ব্যবহারযোগ্য এ শিপিং কনটেইনার গুলো দান করে দেয়া হবে বিশ্বের অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশের ফুটবলের উন্নয়নের জন্য।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম নির্মিত হয়েছে এ ধরনের কোনো স্টেডিয়াম। এমনকি স্টেডিয়াম টি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা কোন প্রযুক্তির দরকার হবে না। এখানে তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই নিয়ন্ত্রিত থাকবে। স্টেডিয়াম টি ডিজাইন করা হয়েছে স্প্যানিশ স্থাপত্য বিষয়ক সংস্থা (Fenwick Lribarren Architects)।

২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিরিয়া মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করে এই স্টেডিয়াম টি। সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ৭ টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই স্টেডিয়ামে। যার মধ্যে ৬ টি গ্ৰুপ পর্বের ম্যাচ বাকি একটি রাউন্ড অব ১৬। যেখানে মেসির আর্জেন্টিনা, নেইমারের ব্রাজিল, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল, রবের্ত লেভানদোভস্কির পোল্যান্ড, এবং ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স ও একটি করে গ্ৰুপ পর্বের ম্যাচ খেলেছে এই স্টেডিয়ামে।


তবে শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এই ৪০ হাজার দর্শক ধারণা ক্ষমতা সম্পন্ন সাড়ে চার লাখ বর্গ কিলোমিটারের দৈত্যাকৃতির এই স্টেডিয়ামের সাথে জড়িত আছে বাংলাদেশের নাম টি। বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন সময়ে প্রধান চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বাংলাদেশের নারী চিকিৎসক চট্টগ্রামের মেয়ে আয়েশা পারভিন। মরুর বুকে এক টুকরো লাল সবুজের প্রতিনিধিত্ব করবেন বাংলাদেশের মেয়ে আয়েশা। ২০২১ সালের শেষের দিকে মরুর বুকে অনুষ্ঠিত আরব কাপের দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশী এই নারী চিকিৎসক।

পরিশেষে আয়োজক দেশ কাতার স্টেডিয়াম টি ফুটবল খেলায় অনুন্নত দেশকে উপহার হিসেবে দেওয়ার ঘোষণা করার পর পরেই বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ও বাফুফের সহ-সভাপতি এই স্টেডিয়ামকটি কে বাংলাদেশে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছেন। বিশ্বকাপ শেষে এই স্টেডিয়াম খুলে ফেলা হবে। খোলার পর থেকে স্টেডিয়াম টি কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে এ নিয়ে বিস্তারিত জানা না গেলেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা চেষ্টা চালাচ্ছেন বিশ্বকাপের স্মৃতিবিজড়িত স্টেডিয়ামটি বাংলাদেশে নিয়ে আসার। বিশ্বকাপ শেষে ঢাকায় ফিরে কাতারের দূতাবাসের সাথে এই বিষয়ে বৈঠকে বসার কথা জানানো হয় সেখানে।

إرسال تعليق

0 تعليقات